loader image for Bangladeshinfo

ব্রেকিং নিউজ

  • নির্বাচনকালীন সরকারে থাকছেন না টেকনোক্র্যাট চার মন্ত্রী

  • ভোটের তারিখ পেছানোর আর কোনো সুযোগ নেই: সিইসি

  • রেকর্ড গড়ে মুশফিকুর রহিমের দ্বিশতরান

  • এসি মিলানকে হারালো ইউভেন্টাস

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ: শেষ হচ্ছে অপেক্ষা


বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ: শেষ হচ্ছে অপেক্ষা

বিশ্বের স্যাটেলাইট ক্ষমতাধর ৫৭তম দেশ হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার ঐতিহাসিক দিনের ক্ষণগণনা চলছে। ২০১৫ সালে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ নির্মাণ চুক্তির পরে কথা ছিলো ২০১৭ সালে সেটি মহাকাশে পৌঁছে যাবে। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সে-বছর উৎক্ষেপণের নির্ধারিত দিন পার হয়ে যায়। এরপর ছয়বার উৎক্ষেপণের দিন পরিবর্তন করে অবশেষে ১০ মে তারিখে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মহাকাশ যাত্রা শুরুর বিষয়ে আশাবাদী বাংলাদেশ এবং উৎক্ষেপণের দায়িত্ব পাওয়া মার্কিন প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স।

সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল লঞ্চ প্যাড থেকে ১০ মে স্থানীয় সময় বিকেল চারটায় (বাংলাদেশ সময় ১১ মে, রাত ৩টা) বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটকে মহাকাশে পৌঁছে দিতে উড়াল দেবে স্পেসএক্সের ‘ফ্যালকন নাইন’ রকেটের একটি নতুন সংস্করণ।

একনজরে দেখে নেওয়া যাক বাংলাদেশের মহাকাশ যাত্রার স্বপ্ন থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন, স্যাটেলাইটটি নির্মাণ, উৎক্ষেপণকারী রকেট এবং মহাকাশে পৌঁছানোর পরে কাঙ্খিত সুবিধা অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের আদ্যোপান্ত।

মহাকাশে বাংলাদেশের স্বপ্নের শুরু

১৯৭৫ সালের ১৪ জুন বেতবুনিয়ায় দেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র উদ্বোধনের মাধ্যমে সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশের মহাকাশজয়ের সূচনা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কিন্তু সে-বছর ১৫ অগাস্ট তাঁকে সপরিবারে হত্যার পর আর সব এগিয়ে চলার মতো এই যাত্রাও থমকে যায়। এরপর ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে তৎকালীন সরকার থমকে যাওয়া সেই যাত্রার প্রাথমিক শুরুটা করলেও ২০০১ সালে সরকার বদলে তা আলোর মুখ দেখেনি। কিন্তু ২০০৯ এবং ২০১৪ পর পর দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অবশেষে বাংলাদেশের মহাকাশ যাত্রার স্বপ্ন বাস্তবায়নের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ পায়।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নির্মাণ চুক্তি

২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেসের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ। চুক্তি অনুযায়ী, স্যাটেলাইটের কাঠামো, উৎক্ষেপণ-ব্যবস্থা, ভূমি ও মহাকাশের নিয়ন্ত্রণ-ব্যবস্থা, ভূ-স্তরে দুটি স্টেশন পরিচালনা সহায়তা ও ঋণের ব্যবস্থা করে ফ্রান্সের নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।  ফ্রান্সের থুলুজে স্যাটেলাইটটির মূল কাঠামো তৈরির কথা দেয় থ্যালেস।

কেনা হয়েছে কক্ষপথ

স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ এবং তা কক্ষপথে রাখার জন্য রাশিয়ার ইন্টারস্পুটনিকের কাছ থেকে কক্ষপথ কেনা হয়েছে। মহাকাশে এই কক্ষপথের অবস্থান ১১৯ দশমিক ১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে সম্পাদিত চুক্তির ভিত্তিতে ১৫ বছরের জন্য এই কক্ষপথ কেনা হয়।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ পরিচিতি

‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ কৃত্রিম উপগ্রহটি একটি জিও-স্টেশনারি স্যাটেলাইট বা ভূস্থির উপগ্রহ। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে ২৬ কু-ব্যান্ড এবং ১৪ সি-ব্যান্ড মিলিয়ে মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে। এর মধ্যে ২০টি ট্রান্সপন্ডার বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে। বাকি ২০টি ট্রান্সপন্ডার বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির জন্য রাখা হবে।

মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রক্রিয়া দেশের বাইরে সম্পন্ন হলেও গাজীপুরের জয়দেবপুর ও রাঙামাটির বেতবুনিয়ায় দুটি গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে এটি নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

পরিচালনায় বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট কোম্পানি

মহাকাশে উৎক্ষেপণের পরে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ পরিচালনা, সফল ব্যবহার ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য ইতোমধ্যে সরকারি মালিকানাধীন ‘বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড’ (বিসিএসসিএল) নামে একটি কোম্পানি গঠন করা হয়েছে। নতুন এই কোম্পানিতে কারিগরি লোকবল নিয়োগ এবং তাঁদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।

উৎক্ষেপণকারী প্রতিষ্ঠান ও রকেট

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নির্মাণ করে এবছরের ৩০ মার্চ একটি বিশেষ উড়োজাহাজে উৎক্ষেপণকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছে দেয় থ্যালাম অ্যালেনিয়া স্পেস। মার্কিন রকেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স এই স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করবে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরালে কেনেডি স্পেস সেন্টারে স্পেসএক্সের লঞ্চ প্যাড থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নিয়ে উড়বে ‘ফ্যালকন নাইন’ রকেট।

উৎক্ষেপণের সবচেয়ে বড় ধাপ পার

স্যাটেলাইটটি বহনকারী ফ্যালকন নাইন রকেটের ‘স্ট্যাটিক ফায়ার টেস্ট’ সম্পন্ন করেছে স্পেসএক্স। ৫ মে নিজস্ব টুইটার পেজে এ-তথ্য জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

টুইটবার্তায় বলা হয়: বাংলাদেশের প্রথম জিওস্টেশনারি কমিউনিকেশনস কৃত্রিম উপগ্রহের উৎক্ষেপণকে সামনে রেখে ফ্যালকন ৯ ব্লক ৫ স্ট্যাটিক ফায়ার টেস্ট সম্পন্ন করা হয়েছে। বাহনটি যাত্রার জন্য ভালো অবস্থায় আছে। পরীক্ষার ডেটা রিভিউ করতে আরও কয়েকদিন লাগবে। রিভিউ শেষ হলেই উৎক্ষেপণের তারিখ নিশ্চিত করা হবে।

উৎক্ষেপণ সফল হলে যেসব সুবিধা দিতে পারে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ সফল হওয়ার পর কক্ষপথে গিয়ে কার্যকর হয়েছে কিনা তা বুঝতে কয়েক সপ্তাহ লাগবে। সব কিছু সফল হলে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১ ডিটিএইচ (ডাইরেক্ট টু হোম) সেবা, স্যাটেলাইট টেলিভিশনের সম্প্রচার এবং ইন্টারনেট সুবিধাসহ ৪০ টি সেবা দিতে পারবে। দেশের স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের কাছে ফ্রিকোয়েন্সি বিক্রির মাধ্যমে দেশের টাকা দেশেই থাকবে, বিদেশ-নির্ভরতা কমবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ট্যারিস্ট্রিয়াল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা বহাল রাখবে, দেশের দুর্গম দ্বীপ, নদী ও হাওর এবং পাহাড়ি অঞ্চলে স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ সেবা চালুও সম্ভব হবে।

উৎসবের প্রস্তুতি

বাংলাদেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সময়কে স্মরণীয় করে রাখতে সফল উৎক্ষেপণের পর রাজধানীর উল্লেখযোগ্য এলাকায় আতশবাজির উৎসব হবে। এছাড়া থাকবে ডিজিটাল আলোকসজ্জার প্রস্তুতি। একই সঙ্গে সবগুলো জেলায়ও এ-উপলক্ষে উৎসব হবে। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ উপলক্ষে একটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশের উদ্যোগও নেবে ডাক অধিদপ্তর।

-তথ্যসূত্র: ওয়েবসাইট; ছবি: প্রতীকী

Loading...