loader image for Bangladeshinfo

ব্রেকিং নিউজ

  • মাঠে এমবাপে, পিএসজি’র বড় জয়

  • শ্রীলঙ্কা দলে ফিরলেন লাসিথ মালিঙ্গা

  • চট্টগ্রাম জহুর হকার্স মার্কেটে আগুন, শতাধিক দোকান পুড়লো

  • পিছিয়েছে মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকো

  • শেখ রাসেলের কবরে আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন সংগঠনের শ্রদ্ধা

ডিজিটাল কমার্স ও আইটিইএস থেকে মূসক অব্যাহতির দাবি


ডিজিটাল কমার্স ও আইটিইএস থেকে মূসক অব্যাহতির দাবি

২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত বাজেট নিয়ে আজ এক সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বাণিজ্য সংগঠনগুলো। রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে যৌথভাবে আয়োজিত এই সম্মেলনে অংশ নেয় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ সফ্টওয়ার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস), বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস), ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্কো)। এতে ডিজিটাল কমার্স ও আইটিইএস-এর উপর থেকে মূসক তুলে নেয়ার দাবি উঠেছে।

সম্মেলনে বেসিস-এর পক্ষে সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর, বিসিএস সভাপতি শাহীদ-উল-মুনির, আইএসপিএবি’র সভাপতি এম এ হাকিম, বাক্কো’র মহাসচিব তৌহিদ হোসেন সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এছাড়া বেসিস-এর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ফারহানা এ রহমান, সহ-সভাপতি (অর্থ) মুশফিকুর রহমান, পরিচালক দিদারুল আলম, বিসিএস-এর সহ-সভাপতি ইউসুফ আলী শামীম, মহাসচিব মোশারফ হোসেন সুমন, কোষাধ্যক্ষ মো. জাবেদুর রহমান শাহীন ও পরিচালক মো. আছাব উল্লাহ খান জুয়েল এবং আইএসপিএবি-এর মহাসচিব ইমদাদুল হক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

বেসিস সভাপতি বাজেট নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, আইসিটি খাতে গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বাজেটে বারাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ সর্বশেষ অর্থবছরের চেয়ে ২১৭৬ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি, গত বছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের বরাদ্দ এ-বছর ১৯৩ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

নতুন উদ্যোক্তাদের (Start-ups) জন্য সরকার ১০০ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি, এই বাজেটে সরকার সোশ্যাল মিডিয়া ও ভার্চুয়াল বিজনেসের উপর ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার উপর ভ্যাট কমানো হয়েছে - যা প্রশংসনীয়। এজন্য আমরা মাননীয় অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।

কিন্তু একইসাথে ভার্চুয়াল বিজনেস তথা ডিজিটাল কমার্সের উপর ভ্যাট ০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭.৫ শতাংশ হয়েছে - যা বিকাশমান এই খাতের অগ্রগতির জন্য অন্তরায়। আমরা তাই এই খাতের জন্য আগামী কয়েক অর্থবছরের জন্য পুনরায় ভ্যাট অব্যাহতির দাবি জানাই।

বেসিস সভাপতি বলেন, আমরা সরকারের কাছে সামগ্রিক তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য বাজেটে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছিলাম। আউটসোর্সিং খাতে গবেষণা ও উন্নয়ন বাবদ বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের মাধ্যমে অন্তত ৩০০ কোটি টাকার একটি থোক বরাদ্দ রাখা যেতে পারে। এছাড়াও টিএ (টেকনিক্যাল অ্যাসিসটেন্ট প্রজেক্ট)-এর জন্য বাজেটে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করার প্রস্তাব ছিল। আমরা সংশোধিত বাজেটে এই প্রস্তাবগুলো পুনরায় বিবেচনা করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

ITES (Information Technology Enabled Services)-এর ওপর ৫% মূসক আরোপ করা হয়েছে - যা এই খাত বিকাশের অন্তরায়। এই খাত থেকে মূসক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। 

পাশাপাশি ITES-এর সংজ্ঞা পরিবর্ধনের দাবি জানাচ্ছি। System Integration, Platform as a service/Cloud service, Software as a service, Annual Software Maintenance Contacts (AMC), Information System/Information technology/CIS/ID Assessment/Audit Services, ICT related capacity building/Skill development, IT Training, Cyber security Assessment, Internet Broadband Service, Computer Hardware এই সেবাসমূহ ITES-এর সংজ্ঞার ভেতরে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানাচ্ছি।

বিসিএস সভাপতি মো. শাহিদ-উল-মুনীর বলেন, ব্যবসায়ী পর্যায়ে কম্পিউটার ও এর যন্ত্রাংশের উপর মূসক অব্যাহতি বহাল রাখা হয়েছে। এই প্রস্তাবনা অবশ্যই ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেন, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আমদানি পর্যায়ে ৫% আগাম-কর আরোপ করা হয়েছে। কম্পিউটার ও কম্পিউটার যন্ত্রাংশ এবং সংশ্লিষ্ট যাবতীয় হার্ডওয়্যার সামগ্রীর উপর অতিরিক্ত করভার ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করবে বিবেচনায় নিয়ে ৫% আগাম-কর থেকে অব্যাহতি প্রদান করা প্রয়োজন।

পাশাপাশি,কম্পিউটার ও কম্পিউটার যন্ত্রাংশ আমদানি-পরবর্তী পর্যায়ে সরবরাহ বা যেকোনোভাবে সরবরাহ বা বিক্রির উপর প্রস্তাবিত বাজেটে মূসক ৫% থেকে বৃদ্ধি করে ৭.৫% করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের স্বার্থে তা পূর্বের ন্যায় ৫% বহাল রাখা হোক।

আইএসপিএবি সভাপতি এম এ হাকিম বলেন, বর্তমান সরকার তথ্যপ্রযুক্তির প্রচার ও প্রসারের বিষয়ে অত্যন্ত তৎপর। এটি সুবিদিত যে, প্রতি ১,০০০ ব্রডব্যান্ড সংযোগের মাধ্যমে প্রায় ১০ জন মানুষের কর্মসংস্থান হয়। এছাড়াও বিশ্বব্যাংকের তথ্যানুসারে, প্রতি ১০% ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পেনিট্রেশনের মাধ্যমে ১.৩৮% জিডিপি-প্রবৃদ্ধি ঘটে।

এমন অবস্থায় ফাইবার অপটিক ক্যাবলের উপর ৫% রেগুলেটরি ডিউটি (RD) আরোপ তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশ ও প্রসারে এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেট জনমানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করবে, যার প্রভাব সরকারি মেগা প্রজেক্টগুলোতেও পড়বে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি বিবেচনায় ফাইবার অপটিক ক্যাবলের উপর ৫% রেগুলেটরি ডিউটি মওকুফ করে আগের মতো ০% করার জন্য আইএসপিএবি জোর দাবি জানাচ্ছে।

বাক্কো’র মহাসচিব তৌহিদ হোসেন বলেন, ITES-এর সংজ্ঞায় BPO-এর কথা উল্লেখ থাকলেও, BPO-এর মধ্যে বিভিন্ন সেবা রয়েছে। তাই BPO-এর সংজ্ঞা আরো সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা জরুরি। পাশাপাশি, ক্রমবর্ধমান তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর সেবা বা ITES-এর উপর আলোচ্য বাজেটে মূসক ৫% বলবৎ রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর সেবার উপর থেকে সম্পূর্ণ মূসক প্রত্যাহারের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার জন্য প্রস্তাব করছি।

 – সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

Loading...