loader image for Bangladeshinfo

ব্রেকিং নিউজ

  • সাহারা খাতুন হাসপাতালে ভর্তি

  • কোভিড-১৯ চিকিৎসায় উত্তরায় ৩০০ শয্যার হাসপাতাল উদ্বোধন

  • মাস্ক পরার নতুন পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

  • মোহাম্মদ নাসিমের অবস্থা সংকটাপন্ন, ৭২ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে

  • দেশে করোনায় ২৪ ঘন্টায় ৩৫ জনের মৃত্যু, ২৬৩৫ জন শনাক্ত, সুস্থ ৫২১ জন

যাচাই ছাড়া ইন্টারনেটে কোনো কিছু শেয়ার করবেন না: প্রধানমন্ত্রী


যাচাই ছাড়া ইন্টারনেটে কোনো কিছু শেয়ার করবেন না: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইন্টারনেটে ক্ষতিকর ডিজিটাল কনটেন্ট ফিল্টারিং করার উপর গুরুত্বারোপ করে সত্য-মিথ্যা যাচাই ছাড়া ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো কিছু শেয়ার বা পোস্ট না করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার বৃদ্ধি আমাদের সুযোগ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নানা সমস্যারও সৃষ্টি করছে। দেখা যায় মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট বা অ্যাপ্স ব্যবহার করতে গেলে বিভিন্ন ধরনের অনেক অপ্রয়োজনীয় লিঙ্ক চলে আসে। তাই, ক্ষতিকর ডিজিটাল কনটেন্ট যথাযথভাবে ফিল্টার করার ব্যবস্থা করতে হবে।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার (৮ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ৩য় ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস ২০১৯’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ-কথা বলেন। খবর স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের।

শেখ হাসিনা বলেন, “দেশের মানুষকে আমি বলবো একটা কিছু আসলো (ইন্টারনেটে আপলোড হলো) অমনি সেটা শুনে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা বা অন্য কিছু করা ঠিক নয়। সঠিক তথ্য যাচাই করে নেওয়া দরকার।” তিনি বলেন, “যাচাই না করে শুধুমাত্র গুজবে কান দেয়া বা শুধুমাত্র নিজের কৌতুহলবশত সেগুলোতে প্রবেশ না করাই ভালো। কোনো ধরনের মন্তব্য দেওয়া বা ছড়ানো বা সেটাতে হাত দেওয়াই উচিত নয়।”

তিনি বলেন, “কোনো পোস্ট শেয়ার করতে গেলে আগে খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে - এটা কতোটুকু সত্য বা মিথ্যা।” “এই অভ্যাস গড়ে তুললে সেটা আমাদের সমাজের জন্য, দেশের জন্য এবং প্রত্যেকের ব্যক্তিজীবনের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে,” বলেছেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিশেষ অবদানের জন্য ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাঝে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ-২০১৯’ সম্মাননা প্রদান করেন। তিনি ‘আমার সরকার’ শীর্ষক একটি অ্যাপও অনুষ্ঠানে উদ্বোধন করেন।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং আইসিটি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এ কে এম রহমতউল্লাহ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এ এন এম জিয়াউল আলম অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

সরকারের আইসিটি সেক্টরের অগ্রগতি তুলে ধরে একটি ভিডিওচিত্রসহ গত ১২ ডিসেম্বর সারাদেশে ডিজিটাল বাংলাদেশ উদযাপনের তথ্যচিত্রও অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয়। মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিদেশি কূটনীতিক এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ সহ উদ্যোক্তা, আইএসপি ও টেলিকমিউনিকেশন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং আমন্ত্রিত অতিথিগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আইসিটিভিত্তিক সেবা সম্পর্কে জনগণকে শিক্ষিত করা এবং প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত দেশ গড়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে গত ১২ ডিসেম্বর সারাদেশে ৩য় ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস উদযাপিত হয়েছে - যার এবারের প্রতিপাদ্য ছিল - “সত্য মিথ্যা যাচাই আগে, ইন্টারনেটে শেয়ার পরে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের ছোট শিশু থেকে শুরু করে তরুণ সমাজকে সাইবার ক্রাইম বা সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন করা একান্তভাবে দরকার।”

তিনি বলেন, মানুষ যেন এ-ব্যাপারে আরও সজাগ হন সেজন্য অভিভাবক, শিক্ষক থেকে শুরু করে সকলকেই আমি সচেতন থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। কারণ এতে ছেলে-মেয়েরা অনেক সময় বিপথে চলে যায়। অনেক ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়, অনেক ধরনের অপরাধের সঙ্গে তাঁরা যুক্ত হয়ে পড়ে। এটা যেন না হতে পারে - সেজন্য সকলকেই সচেতন হতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, “আপনারা বাচ্চাদের হাতে মোবাইল তুলে দিচ্ছেন। কিন্তু তাঁরা কি দেখছে, কোথায় যাচ্ছে - তার ওপর নজরদারি অবশ্যই থাকতে হবে। কারণ আসলে এটা একটা আসক্তির মতো হয়ে যায়।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দীর্ঘসময় ইন্টারনেটে বা মোবাইল, আইপড ও কম্পিউটারে যুক্ত থাকলে মনের ওপর একটা চাপ আসে। এতে শরীরের ওপর চাপ আসে। চোখের ক্ষতি হয়, ব্রেইনের ক্ষতি হয়। কাজেই এই বিষয়গুলোর ওপরে সচেতনতা একান্তভাবে প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।”

“কাজেই এই আসক্তিতে যেন কোনো তরুণ বা শিশু-কিশোর না পড়ে। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের বেলায় এটা আরও বেশি প্রযোজ্য। কারণ আমরা চাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আমাদের সমাজটাও যেন ভালোভাবে গড়ে ওঠে,” বলেছেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা আজ দারিদ্রের হার কমিয়ে ২০ ভাগে আনতে সক্ষম হয়েছি এবং এটাকে আরও কমাতে চাই। প্রবৃদ্ধি ৮.১৫ শতাংশে উন্নীত করেছি, মূল্যস্ফীতি পাঁচ ভাগে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। মাথাপিছু আয় ১,৯০৯ মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছি।”

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বরের নির্বাচনী ইশতেহারে ‘ভিশন টোয়েন্টি টোয়েন্টি ওয়ান’ ঘোষণা করে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছিলাম। আমরা জনগণকে ডিজিটাল বাংলাদেশ উপহার দিয়েছি। আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা এখন অন্য দেশ অনুসরণ করছে ।”

তাঁর সরকার বিগত প্রায় ১১ বছরে ডিজিটাল বাংলাদেশের চার স্তম্ভ – কানেক্টিভিটি, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, ই-গভর্মেন্ট ও আইসিটি ইন্ডাষ্ট্রি প্রোমোশন কেন্দ্র করে নেওয়া অধিকাংশ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করায় জনগণ এখন ঘরে বসে ডিজিটাল সেবা গ্রহণ করতে পারছে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

সারাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, তাঁর সরকার দেশের গ্রামাঞ্চলে ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছে দিতে সারাদেশে ৫,৮৬৫টি ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করেছে। শুধুমাত্র ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে ১০ বছরে মানুষকে ৪৬ কোটি সেবা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশে এখন মোবাইলফোন গ্রাহক ১৬ কোটি ৪১ লক্ষ ৭০ হাজার। বিএনপি সরকারের এক মন্ত্রীর মনোপলি ব্যবসা ভেঙ্গে তাঁর সরকার মোবাইল ফোনকে বেসরকারি খাতে উন্মুক্ত করে দেওয়াতেই এটা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ সফলভাবে উৎক্ষেপণ করায় স্যাটেলাইটের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সম্প্রচারভিত্তিক সেবা সম্প্রসারণ সহজ হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “৩,৬০০টি ইউনিয়ন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট কানেক্টিভিটির আওতায় এনেছি, এ-বছর আরও ২০০ ইউনিয়নে কানেক্টিভিটি দেওয়া হবে। ২০২১ সালের মধ্যে দুর্গম এলাকার বাকি ৭৭২টি ইউনিয়নে ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছে দিব। দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৯ কোটি ৯৫ লক্ষ ৬৫ হাজারের বেশি।”

সরকার প্রধান বলেন, ই-টেন্ডার ও ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নে সফলতা অর্জন করেছি। এক জায়গায় সকল সমস্যার সমাধান-এই লক্ষ্য নিয়ে ‘একসেবা’, ‘এক-পে’ ও ‘একশপ’ উদ্বোধন করা হয়েছে। একইসঙ্গে জনগণ ‘৯৯৯’, ‘৩৩৩’ ও ‘১০৯’ নম্বরে কল করে বিভিন্ন জরুরি সেবা পাচ্ছে।

তিনি বলেন, “চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থী ও তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশে স্টার্টআপ সংস্কৃৃতি গড়ে তোলার উপর জোর দিয়েছি।”

“তথ্য-প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদের চাহিদা মেটাতে জেলা পর্যায়ে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে,” বলেছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে নির্মিত তিনটি হাইটেক ও সফ্টওয়্যার পার্কে ১০৮টি প্রতিষ্ঠানকে স্পেইস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা এ-পর্যন্ত ২৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ প্রস্তাব করেছে। এখন পর্যন্ত বেসরকারি বিনিয়োগ হয়েছে ৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এছাড়া সরকার বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কে ডিজিটাইজড তথ্যসেবা ও ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা সংরক্ষণের জন্য ফোর টায়ার ডাটা সেন্টার চালু করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, “সরকার দ্বিতীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের কাজ শুরু করেছে। ভবিষ্যতে তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের সাথেও দেশকে যুক্ত করা হবে। অথচ বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে দেশের তথ্য চুরি হয়ে যাবে বলে অজুহাত টেনে দেশকে বিনামূল্যে সাবমেরিন ক্যাবলের সাথে যুক্ত হতে দেয়নি, দেশকে পিছিয়ে দিয়েছে।”

২০২০ সালে জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের উদ্যোগসহ আগামী প্রজন্মের জন্য শতবর্ষ মেয়াদী ‘ডেল্টা পরিকল্পনা-২১০০’ গ্রহণের প্রসঙ্গ টেনে আইসিটির সম্প্রসারণ এবং আধুনিকায়নে তাঁর সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখারও প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

Loading...