loader image for Bangladeshinfo

ব্রেকিং নিউজ

  • জাস্টিন ট্রুডোর স্ত্রী সুস্থ

  • স্বল্প পরিসরে চেক ক্লিয়ারিং করার নির্দেশনা জারি

  • দেশে আরও একজন করোনায় আক্রান্ত, সুস্থ হয়েছেন আরও চারজন

  • চীন থেকে ৩ লাখ মাস্ক ঢাকায় এসেছে

  • যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

আত্মহত্যা করেছিলেন চিত্রনায়ক সালমান শাহ: পিবিআই


আত্মহত্যা করেছিলেন চিত্রনায়ক সালমান শাহ: পিবিআই

ঢালিউড তারকা সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিলেন বলে পুলিশের তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)’র তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে। পিবিআই মামলার তদন্ত শেষে সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমকে এ-তথ্য জানিয়েছে। সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন তুলে ধরেন পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার। 

আদালতের আদেশে মামলাটির তদন্তভার পেয়েছিল সংস্থাটি। পিবিআই তাঁদের তদন্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুর পাঁচটি কারণ তুলে ধরেছে। এতে বলা হয়েছে, সালমান শাহ খুন হননি, তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন।

প্রতিবেদন অনুসারে, একজন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকার সঙ্গে ‘অতিরিক্ত অন্তরঙ্গতা’, স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহ, মাত্রাধিক আবেগপ্রবণতার কারণে একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা, মায়ের প্রতি অসীম ভালোবাসা জটিল সম্পর্কের বেড়াজালে পড়ে অভিমানে রূপ নেওয়া এবং দাম্পত্য জীবনে অপূর্ণতার কারণে তিনি আত্মহত্যা করেন।

তদন্ত, সুরতহাল রিপোর্ট, ভিসারা রিপোর্ট, কেমিক্যাল রিপোর্ট, ময়না তদন্ত রিপোর্ট, বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ডের মতামত, হস্তলিপি বিশারদের মতামত, ঘটনাস্থল পরিদর্শন, ভবনে প্রবেশ ও  বাহির-সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞের মতামত, অডিও রেকর্ড, সাক্ষীদের জবানবন্দি, জব্দকৃত আলামত পর্যালোচনা, পূর্ববর্তী সকল তদন্ত প্রতিবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে  খতিয়ে দেখা, বিভিন্ন দালিলিক সাক্ষ্য, পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য, কাগজপত্র ও অন্যান্য সাক্ষ্য পর্যালোচনা করে তাঁর মৃত্যু “ফাঁসের দরুণ ঝুলে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে সম্পন্ন হয়েছে” - যা আত্মহত্যাজনিত বলেই প্রতীয়মান হয়েছে বলে জানানাে হয়। 

ঘটনার তদন্তে ৪৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নিয়েছে পিবিআই।

উল্লেখ্য, ঢাকার চলচ্চিত্রে জনপ্রিয়তার শিখরে থাকাকালে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহ। এ-ঘটনায় তখন অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিল পুলিশ। তবে, সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী দাবি করেন - তাঁর ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। ১৯৯৭ সালের ১৪ জুলাই অভিযোগটি হত্যা-মামলা হিসেবে নেওয়ার আবেদন জানান কমরউদ্দিন।

অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আমলে নিয়ে বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করার জন্য অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-কে নির্দেশ দেন আদালত।

১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। প্রতিবেদনে সালমানের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে প্রতিবেদনটি গৃহীত হয়। সিআইডি’র সেই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে সালমানের বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন।

২০০৩ সালের ১৯ মে মামলা বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠিয়ে দেন আদালত। এরপর প্রায় ১১ বছর মামলাটি সেখানে ছিল। ২০১৪ সালের ৩ অগাস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট। সেই প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে ‘অপমৃত্যু’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী ছেলের মৃত্যু নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকা মহানগর হাকিমের আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে না-রাজি আবেদন দাখিল করেন। না-রাজি আবেদনে উল্লেখ করা হয়, একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ীসহ ১১ জন তাঁর ছেলের হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন।

এরপর মামলাটির তদন্তভার পায় র‌্যাব। র‌্যাব-এর পরে মামলাটির তদন্তভার পরে পিবিআই’র হাতে। 

গতকাল পিবিআই’র তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরে সালমান শাহর মা আবারও তা প্রত্যাখান করে সবসময়ের মতোই দাবি করছেন যে - তাঁর ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।

Loading...