loader image for Bangladeshinfo

শিরোনাম

  • কাতার বিশ্বকাপের শেষ ষোলো পর্ব শনিবার শুরু

  • পর্তুগালকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় দক্ষিণ কোরিয়া; উরুগুয়েের বিদায়

  • ব্রাজিলকে হারিয়েও গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিলো ক্যামেরুন

  • বেলজিয়ামের বিদায়; ৩৬ বছর পরে দ্বিতীয় রাউন্ডে মরক্কো

  • বিশ্বকাপ থেকে জার্মানির বিদায়; শেষ ষোলোতে জাপান-স্পেন

মেসির স্বপ্ন পূরণ হবে এবার?


মেসির স্বপ্ন পূরণ হবে এবার?

কাতার বিশ্বকাপে মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) বাংলাদেশ সময় বিকেল চারটায় লুসাইল স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব। সেই মাঠেই ফাইনাল হবে আগামী ১৮ ডিসেম্বর। ফাইনালে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা থাকবে কি-না, তার একটি ক্ষুদ্র চিত্র দেখা যাবে মঙ্গলবারই।

মেসি সেই ২০০০ সালে বড় স্বপ্ন নিয়ে আর্জেন্টিনা ছেড়ে স্পেনে (বার্সেলোনায়) এসেছিলেন। জাতীয় দলে তাঁর অভিষেক হয়েছিল ২০০৫ সালে। আলবিসেলেস্টেদের বর্তমান কোচ লিওনেল স্কালোনিও ছিলেন সেই দলের সদস্য। প্রায় সাত মাস পরে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রথম গোলের দেখা পান মেসি। যদিও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি হেরে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ২০০৬ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে খেলেন এই ক্ষুদে ফুটবল-জাদুকর। সেবার তিনি তিন ম্যাচ খেলে এক গোল করেছিলেন।

পরের বছরই প্রথম আন্তর্জাতিক শিরোপা উঠতে পারতো মেসির হাতে; তবে কোপা আমেরিকার ফাইনালে ব্রাজিলের কাছে পাত্তাই পায়নি আলবিসেলেস্তেরা। জাতীয় দলে নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে না পারলেও ক্লাব ফুটবলে সাফল্য পেতে শুরু করেন লিও। ২০০৮-০৯ মৌসুমে লা লিগায় ৩১ ম্যাচ খেলে করেন ২৩ গোল; আর বিশ্বকে দেন সেরা হওয়ার আগাম বার্তা। সেই মৌসুম শেষেই জয় করেন প্রথম ব্যালন ডি অর।

২০০৯-১০ মৌসুমটা বার্সায় দুর্দান্ত কেটেছিল মেসির। সেবার লা লিগায় ৩৫ ম্যাচে ৩৪ গোল করে আবারও চমকে দেন তিনি। তবে, জাতীয় দল মেসির জন্য পরিণত হতে থাকে আক্ষেপের এক নামে। ২০১০ বিশ্বকাপে তারকাখচিত দল নিয়ে গিয়েও হতাশ করে আর্জেন্টিনা। গঞ্জালো হিগুয়েন, কার্লোস তেভেজ, অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়াদের দল শেষ আটে ০-৪ গোলে বিধ্বস্ত হয় জার্মানির কাছে। পুরাে আসরেই অনুজ্জ্বল ছিলেন মেসি।

এরপরই বিতর্ক পিছু নেয় মেসির; তিনি শুধু ক্লাবেই পারেন – রটতে শুরু করে এমন কথা। বিশ্বকাপ খেলে ফিরে বার্সেলোনার হয়ে আবারও সাফল্যের রথ চালাতে থাকেন মেসি। ফলে, সমালোচকদের মুখ বন্ধ করার ছিল না কোনো উপায়। ২০১১ সালের কোপা আমেরিকাতেও হতাশ করে আর্জেন্টিনা; মেসি কাটান গোলহীন এক আসর। সেই আসরের পরই আলবিসেলেস্তেদের অধিনায়কের আর্মব্যান্ড উঠে মেসির হাতে।

২০১১-১২ মৌসুমে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান লিও। জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলারের এক মৌসুমে ৮৫ গোলের রেকর্ড ভেঙে থামেন ৯১ গোল করে। জাতীয় দলের হয়েও মনে রাখার মতো একটি বছর অতিবাহিত করেন তিনি। আকাশী-নীল জার্সিতে ১৯ গোল করেন সেবার। মৌসুম শেষে চতুর্থ ব্যালন ডি অর জিতে গড়েন আরও একটি রেকর্ড।

২০১৪ সালে অপবাদ ঘোচানোর সুবর্ণ সুযোগ ছিল মেসির সামনে। ব্রাজিল বিশ্বকাপে অনেকটা একাই দলকে টেনে তুলেছিলেন ফাইনালে। কিন্তু, শিরোপা-নির্ধারণী মঞ্চে মারিও গোটজের শেষ মুহূর্তের গোলে জার্মানির কাছে শিরােপা হারিয়ে অশ্রু-বন্যা বয়ে যায় ভক্তদের চোখে। আর এরপর থেকে ফাইনাল হারাটা নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল আর্জেন্টিনার। ২০১৫ ও ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার দুই আসরের ফাইনাল পরাজিত হয় দল। এরপরে, প্রায় অবসরই নিয়ে ফেলেছিলেন মেসি। সমালোচকরাও আবার বেশ সরব হয়ে উঠে সেই সময়।

২০১৮ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতেই থেমে যায় আকাশী-নীল জার্সিধারী দলটির যাত্রা। যাহােক, এরপরই একটু একটু করে সব বদলে দিতে থাকেন স্কালোনি। তাঁর অধীনে ২০১৯ কোপা আমেরিকার সেমিফাইনাল খেলে আলবিসেলেস্টে। ব্রাজিলের বিপক্ষে পরাজয়ে সেবার শিরোপার লড়াই থেকে ছিটকে গিয়ে আরও একবার হতাশ হতে হয় মেসিদের। অবশ্য, স্কালোনির মনোবল ছিল অটুট। সেখান থেকেই শুরু হয় আর্জেন্টিনার নতুন যাত্রা।

শেষ পর্যন্ত, ২০২১ সালে মেসির হাতে ধরা দেয় প্রথম আন্তর্জাতিক ট্রফি; ২৮ বছরের শিরোপা-খরা কাটে আর্জেন্টিনার। পুরো আসরে চার গোল ও পাঁচটি অ্যাসিস্ট করেন অনেকের মতে ভিনগ্রহের ফুটবলার মেসি। সেমিফাইনাল ও ফাইনালে মাঠে রক্তাক্ত হয়েও ছাড়েননি হাল। দলের সকল সদস্যকে দারুণ অনুপ্রাণিত করেছিল তাঁর এই দৃঢ় মনোবল।

মহাদেশিয় সেই অর্জন বদলে দেয় পুরো দলকে। আত্মবিশ্বাসে টগবগ করতে শুরু করেন তাঁরা, বিশ্বকাপ বাছাইয়ে দেখা মেলে অদম্য এক আর্জেন্টিনার। ইউয়েফা কাপ অফ নেশন্স-এর ফাইনালেও হেসে খেলে হারায় ইতালিকে। ফলে, কাতারে অধিনায়ক মেসির দলের সঙ্গী হলো টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থাকার তুষ্টি।

বিশ্বকাপ ট্রফিহীন ৩৫ বছর বয়সী মেসি বর্তমানে দারুণ ফর্মে রয়েছেন। সাতটি ব্যালন ডি অর ও চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পরে একটি বিশ্বকাপ-তো জিততেই পারেন সাবেক বার্সেলোনা ও বর্তমান প্যারিস সেইন্ট জার্মেই’র এই তারকা।

এখন সারাবিশ্বে কোটি-কোটি আর্জেন্টিনা ভক্ত-সমর্থকের মনে প্রশ্ন – অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া, পাউলো দিবালা, লাউতারো মার্টিনেজ, জুলিয়ান আলভারেজের সঙ্গে নিয়ে মেসি কি পারবেন তাঁর নিজের ও সমর্থকদের স্বপ্ন পূরণ করতে?

Loading...