loader image for Bangladeshinfo

ব্রেকিং নিউজ

  • ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমে ২০ লাখ টাকার বেশি রাখা যাবে না

  • পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকিং ৩১ মে থেকে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সীমিত আকারে

  • অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচল শুরু ১ জুন থেকে

  • আগামী রোববার থেকে শর্তসাপেক্ষে অফিস খোলার সিদ্ধান্তের প্রজ্ঞাপন জারি

  • দেশে ২৪ ঘন্টায় করোনা-আক্রান্ত শনাক্ত ২০২৯ জন, মৃত্যু ১৫ জনের, সুস্থ ৫০০ জন

সূর্যের আলোর বিচিত্র রূপের সন্ধানে


সূর্যের আলোর বিচিত্র রূপের সন্ধানে

বাবা ছিলেন রেলওয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। রেলওয়ে কর্মকর্তা হওয়ার কারণে বাংলাদেশের অনেক জায়গায়

বাবার ট্রান্সফার হইতো। সেই সুবাদে আমাদেরকেও বাবার সাথে যাওয়া লাগতো। জন্মের পর যখন একটু বুদ্ধি হয়েছিল তখন আমার খেলার সাথী ছিল তুষার নামের এক ছেলের সাথে। তখন চট্টগ্রাম ছিলাম আমরা সবাই, বাবা তখন রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার ছিলেন। তুষারের বাবা আমার বাবার সহকর্মী ছিল। আমার পড়াশোনার হাতেখড়ি হয়েছিল রেলওয়ে পাবলিক স্কুলে। তুষার নামের সেই ছেলেটাও আমার সাথেই ভর্তি হলো। হটাৎ বাবার বদলী হয়ে গেল রাজশাহীতে, তখন ১৯৯৬, পরিবারের সবাই মিলে আমরা চলে গেলাম রাজশাহীতে। ওখানে ১৯৯৭ পর্যন্ত থাকার পরে আবার চট্টগ্রাম এ বাবার ট্রান্সফার। চট্টগ্রাম এসেই দেখি আমার বন্ধু আগের বাসাতেই ছিল। বন্ধুত্ত আরো গভীর হলো তার সাথে। ২০০০ সালের দিকে তার বাবার ট্রান্সফার হয়ে গেল রাজশাহীতে, তাঁরাও চলে গেল সেখানে। ঠিক ৩ বছর পর তার বাবার আবার বদলী হলো চট্টগ্রাম শহরে।

২০০৩ এর দিকে আমরা তখন ক্লাস ৮ এ পড়ি। তখন থেকে আমি আর তুষার প্রায় সময় বিকেল বেলা চলে যেতাম রেলওয়ে স্টেশনে ছবি তোলার জন্য। তখন রিল ক্যামেরা ছিল। তাই বেশি ছবি তুলতে পারতাম না। বলতে গেলে তখন থেকেই ক্যামেরার প্রতি ঝোঁক। ছবি ঠিক মতো তুলতে পারতাম না তারপরও কেন জানি এই ক্যামেরার প্রতি আলাদা একটা আকর্ষণ কাজ করতো। এস.এস.সি. পরীক্ষা দেওয়ার পর পড়াশোনার চাপে ক্যামেরার কথা প্রায় ভুলেই গেসিলাম। এভাবে কেটে গেল ২০১৩ পর্যন্ত। ২০১৪ তে যখন মালয়েশিয়াতে পড়াশোনা করতে যাই তখন ওখানে পার্ট টাইম চাকরি করে নিজের দৈনন্দিন খরচ চালাতাম। মাঝে মাঝে বিভিন্ন শপিংমলে ঘোরা ফেরা করতাম। এভাবে ঘোরাফেরা করতে করতে পরিচয় হয়ে গেল এক দোকানদারের সাথে। সে পুরাতন ক্যামেরা বিক্রয় করে। মনের মধ্যে তখন আবার ক্যামেরার সাধ টা জেগে উঠলো। প্রায় ২ মাসের বেতন জমিয়ে একটা পুরাতন ক্যামেরা কিনে ফেললাম। কিছুই তখন বুঝতাম না এটার ব্যাপারে। মাঝে মাঝে মনে হতো এটাকে আবার বিক্রি করে দেই। মাথা কাজ করতই না কিভাবে এটা ব্যবহার করবো। প্রায় ৪ মাস ধরে নিজে নিজে চেষ্টা করে বুঝে নিলাম এটার ফাংশন কি। আমার ক্যামেরাটা ছিল CANON এর। আমার দেখাদেখি ওখানকার কিছু ছোট ভাই জেদ ধরে বসলো যে তারাও ক্যামেরা কিনবে। যেহেতু আমি কিছুটা প্রোগ্রাম বুঝি তাই তারা আমাকে ছাড়া ক্যামেরা কিনবে না। তাদের সাথে আবার সেই দোকানে যেয়ে আরেকটি ক্যামেরা নিলাম। এবার কিনে দিলাম NIKON এর ক্যামেরা। এটার ফাংশন আরো কঠিন ছিল। যেহেতু আমি কিছুটা বুঝতাম তাই আমার জন্য তেমন কোনো সমস্যা হয় নি। প্রথম প্রথম অনেক ছবি তুলতাম নিজের জন্য। কিছুই ঠিক মতো তুলতে পারতাম না।

আস্তে আস্তে শুরু করলাম ফটোগ্রাফি। যখন বুঝতে শিখেছি কোন প্রোগ্রাম এর কি কাজ তখন থেকেই ছবি তোলার আগ্রহটা আরো বেড়ে যায়। প্রতি সপ্তাহে একদিন আমরা সবাই বের হতাম আর আমি হতাম তাদের ফটোগ্রাফার। এভাবেই শুরু হয় আমার ফটোগ্রাফি। ক্যামেরা নিয়ে যখন তখন বের হয়ে যেতাম, সামনে যা দেখতাম তাই হয়ে যেত আমার জন্য অবজেক্ট। একটা সময় ক্যামেরার দোকানদারের সাথে সম্পর্ক অনেক ঘনিষ্ঠ হয়ে যায়। তার কাছে ভালো এবং ফ্রেশ কন্ডিশনের কোনো ক্যামেরা থাকলেই আমাকে নক করতো। পছন্দ হলে এক্সচেঞ্জ করে আরো কিছু টাকা দিয়ে ভালো ক্যামেরা নিয়ে নিতাম। বলতে গেলে এই ক্যামেরার জন্যই আমাকে যেতে হয়েছে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে কারণ ছবি তুলতে হবে আমাকে। অনেকেই ট্যুরে যেত,আমাকে নিয়ে যেত ফটোগ্রাফার হিসেবে। আমিও অনেক এনজয় করতাম ছবি তুলতে। যত ছবি তুলতাম ততো আগ্রহটা বেড়ে যেতো ফটোগ্রাফি নিয়ে। ২০১৬ এর ফেব্রুয়ারি মাসের দিকে আমার বন্ধু তুষার এবং তার পরিবার আসলো মালয়েশিয়াতে ঘুরতে। আমার জীবনের প্রথম বন্ধু এবং তার কাছেই আমার ক্যামেরার হাতেখড়ি হওয়াতে আমার আরো অনেক বেশি ভালো লাগলো কারণ এবার আমরা বিদেশের মাটিতে একসাথে হলাম যদিও সে ক্যামেরা ব্যবহার করতো ২০১২ থেকে। বাসা থেকে স্ট্রেইট বলা ছিল যেভাবে হোক না কেন পড়াশোনা যাতে শেষ করি। ফটোগ্রাফি করতে করতে ভুলেই গেলাম যে আমার পড়াশোনার অনেক ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। তাই তখন ফটোগ্রাফিতে একটু কম সময় দিয়ে পড়াশোনাটা শেষ করলাম। পাশাপাশি জব করতাম একটা কোম্পানি এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার হিসেবে। মাঝে মাঝে বিভিন্ন কোম্পানিতে যাওয়ার দরকার পড়তো মিটিং এর জন্য। তখন ক্যামেরাটা হাতে নিয়ে নিতাম। জানতাম দূরে কোথাও যেতে হবে তাই আমার অবসর সময়ের সঙ্গী হিসেবে থাকতো আমার এই ক্যামেরাটা। এর মাঝে অবশ্য দেশে আসতে হয়েছিল কয়েকবার। বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা, ভাই বোনদের নিয়ে আড্ডার মাঝে থাকতো আমার এই ক্যামেরাটা। সম্পূর্ণ নিজে নিজে চেষ্টা করেই শিখেছি ক্যামেরার সব ফাংশনের কাজ। অন্ধকারের ছবি, সূর্যের আলোতে ছবি, বৃষ্টিতে ছবি মোটামুটি সব কিছু নিজের থেকে শিখেছি। তখন এত YOUTUBE ব্যবহার করতাম না, জানতাম না যে এতো টিউটোরিয়াল পাওয়া যায় YOUTUBE এ। ছবি তোলার সময় আমি প্রায় সময় আমার অবজেক্ট রাখতাম সূর্যকে। কখনো সূর্যের ছবি তুলতাম কখনো সূর্যের আলো তুলতাম।

ফটোগ্রাফি হলো শুধুই আমার জন্য একটা শখ। এটাকে আমি কখনোই পেশা হিসেবে দেখি নি। শখকে যদি পেশা হিসেবে নিতাম তাহলে আমার এই শখ আর শখ থাকতো না। অনেকেই হয়তো বলবে যে আমি ভুল করেছি, কিন্তু আমি বলবো শখ হলো সেটাই যেটা অবসর সময়ের সঙ্গী।

লেখক: মোহাম্মদ আশরাফ উদ দৌলা, আলোকচিত্রী

Loading...