loader image for Bangladeshinfo

ব্রেকিং নিউজ

  • ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমে ২০ লাখ টাকার বেশি রাখা যাবে না

  • পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকিং ৩১ মে থেকে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সীমিত আকারে

  • অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচল শুরু ১ জুন থেকে

  • আগামী রোববার থেকে শর্তসাপেক্ষে অফিস খোলার সিদ্ধান্তের প্রজ্ঞাপন জারি

  • দেশে ২৪ ঘন্টায় করোনা-আক্রান্ত শনাক্ত ২০২৯ জন, মৃত্যু ১৫ জনের, সুস্থ ৫০০ জন

মুখোমুখি কিস্তিমাতের আশিকুর রহমান


মুখোমুখি কিস্তিমাতের আশিকুর রহমান

আপনার ক্যারিয়ারের শুরু একজন চিত্রগ্রাহক হিসেবে, এরপর পরিচালনায় কেন এলেন?

আমার ক্যারিয়ারের শুরু মূলত পরিচালক হিসেবেই। নিজের পরিচালনায় দু-তিনটা প্রডাকশন করার পর বোধ করলাম, চিত্রগ্রহন বিষয়টাও আমার শেখা উচিত। হলিউডের দিকে দেখুন, সেখানে একজন ভালো পরিচালক হতে গেলে প্রথমেই আপনাকে শিখতে হয় সম্পাদনা, এরপর চিত্রগ্রহন, সবশেষে পরিচালনা। চিত্রগ্রহনে আমার গুরু কিংবদন্তী চিত্রগ্রাহক আনোয়ার হোসেন স্যার। এ ছাড়াও চিত্রগ্রাহক রাশেদ জামান ভাই এর কাজ আমাকে যথেষ্ঠ অনুপ্রেরনা যুগিয়েছে। তার কাছ থেকে অনেক বই, অনেক সিডি সেসময়ের পাথেয় হিসেবে কাজ করেছে। এভাবে ক্যামেরার কাজ শেখার পাশাপাশি শিখে ফেললাম এডিটিংটাও। একসময়ে বোধ করলাম, এবারে আমার আবার পরিচালনায় ফেরত আসা উচিত। এভাবেই পরিচালক হিসেবে প্রত্যাবর্তন।

ভবিষ্যতে নিজেকে কোন পরিচয়ে পরিচিত করতে চান? চিত্রগ্রাহক? পরিচালক? নাকি প্রযোজক?

ফিল্মমেকিং এ আমার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরনা বা আইকন হিসেবে যাকে বলা যায় সে হচ্ছে জেমস ক্যামেরুন। জেমস ক্যামেরুন বা সত্যজিত রায় এর কাজগুলোর দিকে তাকালে দেখবেন, তাদের ক্রিয়েশনগুলো তারা নিজ হাতে করতেন। যেটাকে অথরশিপ বলা হয়। সেক্ষেত্রে পরিচালনা, চিত্রগ্রহন, সম্পাদনা সবকিছুতেই নিজের চিন্তার বহিঃপ্রকাশটা আনা যায়। ভবিষ্যতে অবশ্যই নিজেকে চিত্রপরিচালক হিসেবে দেখতে চাই। সাথে সাথে চিত্রগ্রহনের কাজটাও চালিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আর প্রযোজনা ব্যাপারটায় আলাদা রকম ইন্টারেষ্ট পাই আমি। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে দেখা যায় প্রযোজকদের ভূমিকা কেবলমাত্র চলচ্চিত্রে অর্থলগ্নীর মাঝেই সীমাবদ্ধ। আমি সে নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটাতে চাই। আসল প্রযোজকের কাজ শুধুমাত্র অর্থলগ্নী নয়। সমগ্র চলচ্চিত্রের প্রি প্রডাকশন, শ্যুটিং, পোষ্ট প্রডাকশন, মার্কেটিং কাজগুলোর সাথেও সরাসরি যুক্ত থাকা প্রযোজকের অন্যতম কাজ। ভবিষ্যতে কখনো প্রযোজনা করলে দেশের চলচ্চিত্রে আমি এটি করে দেখাতে চাই।

আর্ট ফিল্ম ও কমার্শিয়াল ফিল্ম, এই দুই ধারার পার্থক্য কোথায় খুঁজে পান? আপনার কি মনেহয়, ফিল্মের কি কোন ধারা হওয়া উচিত না অনুচিত?

ফিল্মের তো তিনটা ধারা। ফাষ্ট ফিল্ম, সেকেন্ড ফিল্ম, থার্ড ফিল্ম। কোন দেশের কালচার গ্রো করতে গেলে আর্ট ফিল্ম এর ভূমিকা অপরিসীম। কোন দেশে যদি মৃনাল সেনের মেঘে ঢাকা তারা কিংবা সত্যজিত রায়ের জন অরন্যের মত চলচ্চিত্র নির্মান না হলে সে দেশের কালচার কখনো গ্রো করবেনা। তবে দেশের এখনকার প্রেক্ষাপটে কমার্শিয়াল চলচ্চিত্র নির্মান অবশ্যপ্রয়োজনীয় দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলো টিকিয়ে রাখতে। আস্তে আস্তে দর্শক হলে আসলে বানিজ্যিক ছবির পাশাপাশি তখন আমরা আর্ট ধারার ছবিগুলোও বানাতে পারবো।

ভবিষ্যতে কখনো কি আর্ট ফিল্ম বানাবেন যেটা দেশের জন্য কোন অ্যাওয়ার্ড আনতে পারে?

আমি একটা জিনিস খুব ঘোরতর ভাবে অপছন্দ করি তা হলো অ্যাওয়ার্ড এর জন্য ছবি বানানো। বিচারক প্যানেলের দশ-পনেরো জন কখনো একটা ছবির ভাগ্য নির্ধারন করতে পারেনা। দশ-পনেরোজনের জন্য ছবি বানানোটা অন্যায়। চলচ্চিত্র একটি শক্তিশালী মাধ্যম, এটি জনগনের ভাষা। আপনি কখনই জনগনের ভাষাকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করতে পারেননা। চলচ্চিত্র বানাতে হবে সবার জন্য। ভালো চলচ্চিত্র পৃথিবীর সকল যায়গাতেই গ্রহনযোগ্যতা পাবে। তবে আমি অবশ্যই ভবিষ্যতে চাইবো ভালো গল্প নিয়ে কাজ করতে। যেখানে কমার্শিয়াল এলিমেন্টটা কম থাকবে, তবে গল্পটা অনেক ষ্ট্রং হবে।

কবে ঢুকলো সিনেমা বানানোর পোকা?

ফিল্মের পোকা ঢুকলো বুয়েটে পড়ার সময়। আমি তখন সেকেন্ড ইয়ার থেকে থার্ড ইয়ারে উঠছি। আমাদের ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্টাল প্রোগ্রামে প্রতিবার অনেকে নানারকম প্রডাকশন নামাতো। তখন আমার মাথায় চিন্তা আসলো, এবারে আমরাই ভালোভাবে একটা প্রডাকশন নামাই। তখন ৪৫ মিনিটের একটা প্রডাকশন বানালাম “ঋ” নামে। প্রোগ্রামের দিনে কাজটি প্রদর্শিত হলো, দেখলাম একসাথে আমি অডিটরিয়ামের দেড় হাজার মানুষকে কাঁদাতে পারছি, হাসাতে পারছি। তখনই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম, আমি জীবনে শুধু ফিল্মই বানাবো। এটাই একমাত্র জিনিস যেটা করে আমি ভেতর থেকে শান্তি পাই।

ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে কেন ফিল্মমেকিংকে পেশা হিসেবে বেছে নিলেন?

ইঞ্জিনিয়ারিং অবশ্যই আমার প্রিয় জিনিস। তবে তার চেয়েও প্রিয় আমার এ ফিল্মমেকিং জিনিসটা, যেটা আমাকে পাগলের মত টানে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের একটা বিষয় খেয়াল করলে দেখবেন, আমাদের ফিল্ম ইন্ড্রাষ্টি টেকনিকালি ততটা রিচ নয়। আমার ভাবনাটা ছিলো, যেহেতু আমি ব্যাকগ্রাউন্ডে ইঞ্জিনিয়ার আর ফিল্ম আমার প্যাশন। সেক্ষেত্র দুটোকে একত্রে করেই দেখি কি হয়। এ ভাবনা থেকেই আমার এ পেশাটা বেছে নেয়া। হলিউডের ছবিগুলো খেয়াল করলে দেখবেন, ফিল্মমেকিং ইজ অল অ্যাবাউট ইঞ্জিনিয়ারিং। এদের এক একটা ছবি শ্যুটের জন্য নতুন নতুন টেকনিকাল গিয়ার বানানো হয়। যেমন, চিলড্রেন অব ম্যান ছবিটায় শুধুমাত্র একটা শট নেয়ার জন্য একটা টেকনিকাল ডিভাইসই ডেভলপ করা হয়েছিলো। ব্যাপারটা হচ্ছে ওখানেই। আমাদের ফিল্ম ইন্ড্রাষ্টিকে আমি টেকনিকালি রিচ পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই। আমি আমার সকল ছবিতে ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাপ্লিকেশন প্রয়োগ করে নির্মানের ধাঁচকে আরো আধুনিক করতে চাই। সেক্ষত্রে আমার সাথে সাথে আরো অনেক তরুনকেই এগিয়ে আসতে হবে, তবেইনা ইন্ড্রাষ্টিটা পরিবর্তন হবে।

সাক্ষাতকার গ্রহনে: মোঃ আলতামিশ নাবিল

Loading...