loader image for Bangladeshinfo

ব্রেকিং নিউজ

  • ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমে ২০ লাখ টাকার বেশি রাখা যাবে না

  • পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকিং ৩১ মে থেকে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সীমিত আকারে

  • অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচল শুরু ১ জুন থেকে

  • আগামী রোববার থেকে শর্তসাপেক্ষে অফিস খোলার সিদ্ধান্তের প্রজ্ঞাপন জারি

  • দেশে ২৪ ঘন্টায় করোনা-আক্রান্ত শনাক্ত ২০২৯ জন, মৃত্যু ১৫ জনের, সুস্থ ৫০০ জন

জিতেই টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু টাইগারদের


জিতেই টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু টাইগারদের

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ২০০/৩ (সৌম্য ৬২*, লিটন ৫৯, তামিম ৪১; রাজা ১/৩১, এমপোফু ১/৫৮, মাধেভেরে ১/১৫)
জিম্বাবুয়ে: ১৯ ওভারে ১৫২ (কামুনহুকামউই ২৮, মুম্বা ২৫; মোস্তাফিজ ৩/৩২, শফিউল ১/১৯, সাইফউদ্দিন ১/১৯, বিপ্লব ৩/৩৪, আফিফ ১/১৮)
ফলাফল: বাংলাদেশ ৪৮ রানে জয়ী
ম্যাচ-সেরা: সৌম্য সরকার (বাংলাদেশ)

আবারও ঝড় তুললেন লিটন দাস। বিয়ের ছুটির পরে ফিরে সৌম্য সরকার টি-টোয়েন্টিতে খেললেন ক্যারিয়ার-সেরা ইনিংস। চার-ছয়ের ফুলঝুরি ছুটিয়ে আসর মাতালেন দুজনে। টি-২০তে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথমবার ২০০ রান স্পর্শ করল বাংলাদেশ। ফলে, টাইগাররা পেয়েছে সহজ জয়।

দুই ওপেনার লিটন দাস ও সৌম্য সরকারের ব্যাটিং নৈপুণ্যে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয় দিয়ে টি-২০ সিরিজ শুরু করলো স্বাগতিক বাংলাদেশ। সোমবার (৯ মার্চ) সিরিজের প্রথম ম্যাচে টাইগাররা ৪৮ রানে হারিয়েছে জিম্বাবুয়েকে। এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল মাহমুদুল্লাহর দল।

এদিন প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে তিন উইকেটে ২০০ রান করে বাংলাদেশ। ম্যাচ-সেরা নির্বাচিত হওয়া সৌম্য অপরাজিত ৬২ ও লিটন ৫৯ রান করেন। জবাবে ১৯ ওভারে ১৫২ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে।

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে বাংলাদেশকে ব্যাটিংএর আমন্ত্রণ জানান জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিন উইলিয়ামস। ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। সিলেটে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ২৪৫ বলে ২৯২ রানের রেকর্ড জুটি গড়েছিলেন তামিম-লিটন। সিলেটের সেই আবহটাই মিরপুরে টেনে নিয়ে আসেন তাঁরা।

প্রথম ওভারে জিম্বাবুয়ের স্পিনার সিকান্দার রাজাকে একটি করে চার-ছক্কা মারেন লিটন। পরের ওভারের প্রথম বলে নিজের প্রথম বাউন্ডারি মারেন তামিম। এতে আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় তামিম-লিটনের। তাই পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর হাফ-সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন। আর পাওয়া প্লে শেষে ৫৯ রানে পৌঁছায় বাংলাদেশের রান।

পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার পরেও মারমুখী মেজাজে ছিলেন তামিম-লিটন। অবলীলায় রান তুলেছেন তাঁরা। ১০ ওভার শেষে দলের স্কোর ৯১তে পৌঁছায়। তবে তখন দু’জনের কেউই হাফ-সেঞ্চুরিতে পৌঁছাতে পারেননি। কিন্তু ততক্ষণে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম উইকেট জুটিতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েন তামিম-লিটন।

একাদশ ওভারের দ্বিতীয় বলে তামিম-লিটনকে বিচ্ছিন্ন করেন জিম্বাবুয়ের স্পিনার ওয়েস্লি মাধভেরে। উইকেট ছেড়ে মারতে গিয়ে বল আকাশে তুলে দেন তামিম। এক্সট্রা কভারে তামিমের ক্যাচ নেন অধিনায়ক উইলিয়ামস। ৯২ রানে থামে বাংলাদেশের প্রথম উইকেট জুটি। ফলে, বাংলাদেশের পক্ষে টি-২০ ক্রিকেটে উদ্বোধনী জুটিতে নিজেদের রেকর্ড ভেঙ্গে নতুন রেকর্ড গড়েন তামিম-লিটন।

অবশ্য বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটিতে আগের সর্বোচ্চ রান ছিলো এই তামিম-লিটনেরই। ২০১৮ সালে কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে শ্রীলংকার বিপক্ষে উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র ৩৫ বল খেলে ৭৪ রান করেছিলেন তামিম-লিটন।

তামিম ফেরার ওভারেই টি-২০ ক্যারিয়ারে তৃতীয় অর্ধশত রান করেন ইনফর্ম লিটন। ৩১ বলে হাফ-সেঞ্চুরির পরে অবশ্য নিজের ইনিংসটি বেশি বড় করতে পারেননি শেষ ওয়ানডেতে ১৭৬ রান করা লিটন। রাজার ঘুর্ণিতে লেগ বিফোর হওয়ার আগে ৩৯ বল খেলে পাঁচটি চার ও তিনটি ছক্কায় ৫৯ রান করেন তিনি।

দলীয় ১০৬ রানে লিটন ফিরলে ক্রিজে জুটি বাঁধেন সৌম্য সরকার ও মুশফিকুর রহিম। শুরু থেকেই মারমুখী মেজাজে খেলেছেন তাঁরা। ফলে দলের স্কোর ১৫০-এর কাছে পৌঁছে যায়। দুইটি ছক্কায় দারুণ শুরু করেছিলেন মুশফিক। শেষ পর্যন্ত দলীয় ১৪৬ রানে জিম্বাবুয়ের পেসার ক্রিস এমপফুর বলে আউট হন তিনি। আট বলে ১৭ রান করেন মুশফিক। তখন ইনিংসের ২৫ বল বাকী ছিলো।

মুশফিক ফিরলেও রানের চাকা দ্রুত ঘুরিয়েছেন সৌম্য। তাঁকে স্ট্রাইক দিতে মনোযোগী ছিলেন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। জিম্বাবুয়ের পেসার ডোনাল্ড তিরিপানোর করা ইনিংসের সপ্তদশ ওভারে ১৬ রান করেন সৌম্য ও মাহমুদুল্লাহ। এরমধ্যে একটি করে চার-ছক্কা মারেন সৌম্য। পরের দু’ওভারে যথাক্রমে - ৭ ও ১০ রান করেছেন তাঁরা।

শেষ ওভারের প্রথম বলে ছক্কা মেরে হাফ-সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় পৌঁছান সৌম্য। আর তৃতীয় বলে একরান নিয়ে ৪৯ ম্যাচের ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। তাঁর প্রথম হাফ-সেঞ্চুরিটি ছিলো ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় শ্রীলংকার বিপক্ষে। এরপর ২১ ইনিংস পরে ৩০তম বলে হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন সৌম্য।

এমপফুর করা ঐ ওভারের শেষ দু’বলে দু’টি ছক্কা মেরে বাংলাদেশের স্কোর ২০০ স্পর্শ করান সৌম্য। ২০ ওভারে তিন উইকেটে ২০০ রান করে টি-২০ ক্রিকেটে তৃতীয়বারের মতো ২০০ রান করলো বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দলীয় রান ।

সৌম্য ৩২ বলে চারটি চার ও পাঁচটি ছক্কায় সংক্ষিপ্ত সংস্করণে সর্বোচ্চ অপরাজিত ৬২ রান করেন। নয় বলে ১৪ রানে অপরাজিত থাকেন মাহমুদুল্লাহ। জিম্বাবুয়ের রাজা-এমপফু-মাধভেরে একটি করে উইকেট শিকার করেন।

জয়ের জন্য ২০১ রানের বিশাল টার্গেটে খেলতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই প্রথম ধাক্কা খায় জিম্বাবুয়ে। ব্রেন্ডন টেইলরকে এক রানে বিদায় দেন বাংলাদেশের পেসার শফিউল ইসলাম। এরপর দ্রুত আরও দুই উইকেটের পতন ঘটে জিম্বাবুয়ের। মিডল-অর্ডারে ক্রেইগ আরভিন আট ও ওয়েসলি মাধভেরে চার রানে ফেরেন। আরভিনকে শিকার করেন মুস্তাফিজুর রহমান। মাধভেরে রান আউটে কাটা পড়েন।

সতীর্থরা ব্যর্থ হলেও রানের চাকা সচল রেখেছিলেন ওপেনার তিনাসি কামুনহুকাম্বে। তবে দলের প্রয়োজন মেটাতে পারেননি তিনি। স্পিনার আমিনুল ইসলামের প্রথম শিকার হয়ে ২৮ রানে থামেন কামুনহুকাম্বে। চারটি চার ও একটি ছক্কায় ২০ বলে ২৮ রান করেন কামুনহুকামবে। চতুর্থ উইকেটে অধিনায়ক উইলিয়ামসের সাথে ১৭ বলে ৩২ রানের জুটি গড়েছিলেন তিনি।

এরপর জিম্বাবুয়ের মিডল-অর্ডারের নির্ভরযোগ্য তিন ব্যাটসম্যানকে ছোট-ছোট ইনিংসে থামিয়ে দিয়ে বাংলাদেশের জয়ের পথ তৈরি করেন বোলাররা। উইলিয়ামস ১২ বলে ২০, রাজা ১০, রিচমন্ড মুতুম্বামি ১৩ বলে ২০ ও ডোনাল্ড তিরিপানো ১৩ বলে ২০ রান করেন। ফলে ১৩০ রানে নবম উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। তখন বাংলাদেশের জয় ছিল শুধুই সময়ের ব্যাপার।

অবশ্য, শেষ উইকেটে এমপফুকে নিয়ে ব্যাট হাতে ঝড় তুলে টাইগারদের জয়কে কিছুটা দীর্ঘায়িত করেন চার্ল মুম্বা। শেষ পর্যন্ত মুম্বাকে থামান মুস্তাফিজ। তখন জিম্বাবুয়ের রান ১৫২।

১৬ বলে তিনটি চার ও একটি ছক্কায় ২৫ রান করেছেন মুম্বা। দুই রানে অপরাজিত ছিলেন এমপফু। বাংলাদেশের আমিনুল ও মুস্তাফিজ তিনটি করে উইকেট পেয়েছেন।

আগামী বুধবার (১১ মার্চ) মিরপুরেই হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টি-২০ ম্যাচ।

Loading...