loader image for Bangladeshinfo

ব্রেকিং নিউজ

  • রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে ম্যান সিটি

  • রোনাল্ডোর জোড়া গোল, বিতর্কিত পেনাল্টিতে বিদায় ইউভেন্টাসের

  • দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ আরও আকর্ষণীয় করতে প্রধানমন্ত্রী আহ্বান

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাহারা খাতুন আর নেই


আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাহারা খাতুন আর নেই

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন এমপি আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রবীণ এই রাজনীতিক শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক সাংবাদিকদের এ-তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাহারা খাতুনের মরদেহ দেশে আনার ব্যাপারে আজ শুক্রবার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁরা মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

সাহারা খাতুনের বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। দীর্ঘদিন যাবৎ তিনি কিডনি, নিউমোনিয়াসহ নানা রোগে ভুগছিলেন। গত ২ জুন তাঁকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কিছুদিন ধরে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার (৬ জুলাই) তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ব্যাংককে নেয়া হয়। সেখানে বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে সেইদিনই তাঁকে ভর্তি করা হয়।

সাহারা খাতুনের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন

১৯৪৩ সালের ১ মার্চ ঢাকার কুর্মিটোলায় জন্মগ্রহণ করেন সাহারা খাতুন। তাঁর পিতার নাম আব্দুল আজিজ ও মাতার নাম টুরজান নেসা। শিক্ষাজীবনে তিনি বিএ, এলএলবি ডিগ্রি আর্জন করেন এবং রাজনীতির পাশাপাশি আইনপেশায় নিযুক্ত ছিলেন।

ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্র রাজনীতিতে নাম লেখান। আইনপেশায় আসার পরে সক্রিয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৬৯ সালে আওয়ামী লীগের মহিলা শাখা গঠিত হলে তাতে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ শুরু করেন এবং সারা ঢাকা শহরের নারীদের আইভি রহমানের নেতৃত্বে সংগঠিত করতে শুরু করেন। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে জাতীয় নেতা তাজউদ্দীন আহমদ (মরহুম) আওয়ামী লীগের মহিলা শাখা গঠন করে দিয়েছিলেন। তখন থেকেই মিছিল-মিটিং সবকিছুতেই অংশগ্রহণ করেছেন। ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের দিনও তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করেন।

তিনি প্রথমে নগর আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদিকা নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে মহিলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদিকা এবং একই সাথে নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-আইন সম্পাদিকা, পরে আইন সম্পাদিকা নির্বাচিত হন; তখন তিনি নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদ এবং মহিলা আওযামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ আর গ্রহণ করেননি। 

অতঃপর তিনি পরবর্তী কাউন্সিলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হন। মৃত্যুর আগপর্যন্ত তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবেই ছিলেন।

ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, আইয়ুব-ইয়াহিয়াবিরোধী আন্দোলন, দেশ স্বাধীনের আন্দোলন, ৭৫’র পর অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরশাসক এরশাদবিরোধী আন্দোলন এবং খালেদা জিয়ার নির্যাতন নিপীড়নের বিরুদ্ধে সক্রিয় আন্দোলন করেছেন রাজপথে। রাজপথে আন্দোলন করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে হরতাল, সভা-সমাবেশ করতে গিয়ে একাধিকবার গ্রেফতার এবং নির্যাতিত হয়েছেন। আইনপেশায় নিয়োজিত থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের বহু সংখ্যক নেতাকর্মীর মামলা বিনাপয়সায় লড়েছেন।

বাংলাদেশ সরকারের প্রথম নারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে প্রথমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পরে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। 

এর আগে ফখরুদ্দিন, মঈনুদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেফতার করা হয় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। তাঁর সঙ্গে আবারও গ্রেফতার হন অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন। 

তিনি ছিলেন কল্যাণমূলক রাজনীতির অগ্রদূত ও ব্যক্তিগতভাবে শেখ হাসিনার খুব প্রিয়।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (২০০৮) তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-১৮ আসন থেকে নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হওয়ার পরে মন্ত্রিসভা গঠনের সময় ডাক পড়ে সাহারা খাতুনের। তিনি শপথগ্রহণ করেন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ২০১২ সালে মন্ত্রণালয়ের রদবদল ঘটলে তিনি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

Loading...