loader image for Bangladeshinfo

ব্রেকিং নিউজ

  • চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বুধবার ভোট গ্রহণ

  • এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে হবে

  • অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রোজেন্কার ৫০ লাখ কোভিড-১৯ টিকা এখন ঢাকায়

  • জলবায়ুর ক্ষতি পোষাতে উদ্যোগ গ্রহণে ব্যর্থতার জন্য অর্থ ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবই দায়ী: প্রধানমন্ত্রী

  • কোভিড-সংক্রান্ত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করবেন বাইডেন

সরকার কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের তিন কোটি ডোজ বিনামূল্যে সরবরাহ করবে


সরকার কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের তিন কোটি ডোজ বিনামূল্যে সরবরাহ করবে

কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধে সরকার মাস্ক ব্যবহারে আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণের পাশাপাশি জনগণকে তিন কোটি ডোজ কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন বিনামূল্যে সরবরাহ করবে।

‘বিতরণবিষয়ক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) গাইডলাইন অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে যে তিন কোটি ডোজ ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হবে, তা মানুষকে বিনামূল্যে প্রদান করা হবে,’ মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সোমবার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ-কথা বলেন। খবর স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের।

এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে এবং মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ভিডিও কনফারেন্সে মাধ্যমে ভার্চুয়ালি বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

সচিব বলেন, কোভিড-১৯ সেকেন্ড ওয়েভ মোকাবেলা ও ভ্যাকসিন সংগ্রহের সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ মন্ত্রিসভাকে অবহিত করে।

তিনি বলেন, ‘গত ১৪ অক্টোবর সরকারের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন সংগ্রহের অংশ হিসেবে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদিত ‘অক্সফোর্ড আল্ট্রাজেনিকা’ ভ্যাকসিন বাংলাদেশ সরকারের কাছে তিন কোটি ডোজ বিক্রির প্রস্তাব পেশের অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘গত ৫ নভেম্বর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সাথে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যাল্সের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশকে তিন কোটি ডোজ ভ্যাকসিন সরবরাহ করবে সিরাম ইনস্টিটিউট।’

সচিব বলেন, ১৬ নভেম্বর অর্থ বিভাগ ভ্যাকসিন কেনার জন্য স্বাস্থ্যসেবা বিভাগকে ৭৩৫ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। ভ্যাকসিন কেনার জন্য অর্থনৈতিক ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে প্রস্তাব ও পাঠানো হয়েছে।’

এ-সংক্রান্ত ক্রয়চুক্তির খসড়া প্রস্তুত হয়ে গেলেও চুক্তি সম্পাদন না-হওয়া পর্যন্ত প্রতি ডোজ ভ্যাকসিনের মূল্য সম্পর্কে বলা যাবে না বলেও সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি উল্লেখ করেন।

‘মাস্ক ব্যবহারের বিষয়ে আমরা আরও কঠোর অ্যাকশনে যাবো। অবশ্য ঢাকার বাইরেও বিভিন্ন জেলা সদরে মানুষের সচেতনতা বেড়েছে,’ বলেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

তিনি বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ জরিমানা করার নির্দেশ দিয়েছি, তা না হলে আমরা আরও অন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তা-ও যদি জনগণ না শোনে, তাহলে জেলেও যেতে হতে পারে। কেননা আমরাতো ঝুঁকি নিতে পারি না।’

তিনি বলেন, মোবাইল কোর্টগুলোকে ইনস্ট্রাকশন দিয়ে দেওয়া হয়েছে ফাইন করার পরে উক্ত ব্যক্তিকে কাপড়ের মাস্ক দিয়ে দেওয়ার জন্য। যেন পরে কয়েকবার পর্যন্ত সেই মাস্ক সে ব্যবহার করতে পারে।

‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নীতিমালা, ২০২০’ এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নীতিমালা অনুযায়ী, জরুরি সেবার হটলাইন নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে মিথ্যা, বানোয়াট, গুজব ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিলে শাস্তির মুখে পড়তে হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা বিভাগে একটি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নামে একটি ইউনিট গঠিত হবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘কমপক্ষে ডিআইজি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হবেন।’

তিনি বলেন, ‘নীতিমালায় বলা হয়েছে, মিথ্যা, বানোয়াট, গুজব ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য যদি দেয় তবে সেটাও দেখা হবে। দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে অভিহিত হবে। তবে, কেউ যদি চিট করতে চায়, ইচ্ছা করে যদি কিছু করে, তাহলে সেটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে বিবেচিত হবে। সেজন্য সংশ্লিষ্ট আইন প্রযোজ্য হবে। মিথ্যা তথ্য দেয়ার শাস্তি পেনাল কোডে আছে।’

সচিব বলেন, ‘কে কোথা থেকে ফোন করছে, সেটা টোটালি ডিটেক্টের ব্যবস্থা থাকবে। সুতরাং কেউ সহজে মিথ্যা রিং করতে যাবে না।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আরেকটি জিনিস হবে, আরও যে-নম্বরগুলো আছে যেমন - ৩৩৩, ১০৯, এগুলো সব ইন্টারঅপারেটিভ হয়ে যাবে। যেকোনোটায় ফোন করে যদি কেউ বলে এখানে ডাকাত পড়েছে, ওখানে অটোম্যাটিক্যালি কানেক্টেড হয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আজকে নির্দেশনা দিয়েছেন, এটা খুবই ইফেকটিভ করে দিতে হবে। মেইনলি তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের গাইডলাইনে এটা (জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ কার্যক্রম) হয়েছে।’

এছাড়া, বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয় এবং তথ্য ও যোগাযোগ-প্রযুক্তি বিভাগ কর্তৃক অগ্রসরমান তথ্য ও যোগাযোগ-প্রযুক্তি বিষয়ে প্রণীত পাঁচটি কৌশলপত্র সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়, বলেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

Loading...