loader image for Bangladeshinfo

ব্রেকিং নিউজ

  • বাংলাদেশ ঈদ শুক্রবার

  • বায়তুল মুকাররমে ঈদের পাঁচটি জামাত

  • ম্যানইউ’র পরাজয়ে প্রিমিয়ার লিগ জিতলো ম্যানসিটি

  • দেশে প্রথমবারের মতো চললো মেট্রোরেল

  • ভারতের নতুন করোনা-ভ্যারিয়েন্ট বিশ্বের জন্য উদ্বেগজনক: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী মিতা হক আর নেই


বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী মিতা হক আর নেই

একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী ও শুদ্ধ সংগীত চর্চার অন্যতম পুরোধা মিতা হক আর নেই। তিনি আজ সকাল ৬টা ২০ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নাইলাহি রাজিউন)। খবর স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের।

মিতা হকের বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর। তিনি প্রয়াত অভিনেতা খালেদ খানের স্ত্রী। খালেদ ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর মারা যান। তাঁর চাচা দেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অগ্রপথিক ও রবীন্দ্র গবেষক ওয়াহিদুল হক। মেয়ে জয়িতাও রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী।

পারিবারিক সূত্র জানায়, মিতা হক করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চার দিন আগে করোনা নেগেটিভ হলে তাঁকে বাসায় নিয়ে আসা হয়। হঠাৎ আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে আবার তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি পাঁচ বছর ধরে কিডনি রোগে ভুগছিলেন। নিয়মিত ডায়ালাইসিস নিয়ে ভালোও ছিলেন। কিন্তু এবার করোনায় আক্রান্ত হয়ে মানসিক ও শারীরিকভাবে কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েন।

আজ বেলা ১১টায় শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য মরদেহ ছায়ানটে নেওয়া হবে। তাঁকে দাফন করা হবে কেরানীগঞ্জের বড় মনোহারিয়ায়, বাবা-মায়ের কবরের পাশে।

মিতা হক প্রথমে তাঁর চাচা ওয়াহিদুল হক এবং পরে ওস্তাদ মোহাম্মদ হোসেন খান ও সন্জীদা খাতুনের কাছে গান শেখেন। ১৯৭৬ সাল থেকে তিনি তবলাবাদক মোহাম্মদ হোসেন খানের কাছে গান শেখা শুরু করেন। ১৯৭৭ সাল থেকে নিয়মিত তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারে সংগীত পরিবেশন করেন। তিনি বাংলাদেশ বেতারের সর্বোচ্চ গ্রেডের তালিকাভুক্ত শিল্পী। 

১৯৯০ সালে বিউটি কর্নার থেকে প্রকাশিত হয় মিতা হকের প্রথম রবীন্দ্রসংগীতের অ্যালবাম ‘আমার মন মানে না’। সংগীতায়োজনে ছিলেন সুজেয় শ্যাম। সব মিলিয়ে প্রায় ২০০টি রবীন্দ্র সংগীতে কণ্ঠ দিয়েছেন মিতা হক। তাঁর এককভাবে মুক্তি পাওয়া মোট ২৪টি অ্যালবাম রয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি ভারত থেকে ও ১০টি বাংলাদেশ থেকে।

তিনি সুরতীর্থ নামে একটি সঙ্গীত প্রশিক্ষণ দল গঠন করেন, যেখানে তিনি পরিচালক ও প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। এছাড়া তিনি ছায়ানটের রবীন্দ্রসঙ্গীত বিভাগের প্রধান ছিলেন। তিনি রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলন পরিষদের সহ-সভাপতি ছিলেন।

মিতা হক ২০১৬ সালে শিল্পকলা পদক লাভ করেন। এরপর কবি রবীরাদ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মিতা হককে বাংলা একাডেমি রবীন্দ্র পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। একই বছর চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত রবি-চ্যানেল আই রবীন্দ্রমেলায় রবীন্দ্র সঙ্গীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মিতা হককে সম্মাননা দেওয়া হয়। 

সংগীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার মিতা হককে ২০২০ সালে একুশে পদক প্রদান করে।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিতা হকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। পৃথক শোক বার্তায়  রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোক-সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

Loading...