loader image for Bangladeshinfo

ব্রেকিং নিউজ

  • করোনা-সংক্রমণ বৃদ্ধিতে ঢাকার সঙ্গে সাত জেলার যোগাযোগ বন্ধ

  • জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের শর্তসাপেক্ষে প্রমোশন

  • ইনজুরি সময়ের গোলে ইকুয়েডরকে রুখে দিল ভেনেজুয়েলা

  • ম্যাচ জিতে পুরনো রেকর্ড স্পর্শ করলো ইতালি, হেরেও নকআউটে ওয়েল্স

  • আরও ৫৩,৩৪০টি পরিবারকে বিনামূল্যে ঘর প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী

আপনজনদের জীবন হুমকির মুখে ঠেলে দেবেন না: প্রধানমন্ত্রী


আপনজনদের জীবন হুমকির মুখে ঠেলে দেবেন না: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উদযাপনে গ্রামের বাড়ি যেতে ছুটাছুটি না-করতে দেশবাসীর প্রতি আবার আহ্বান জানিয়েছেন। এতে আপনজনের জীবনই হুমকির মুখে পড়বে। তিনি পাশ্ববর্তী দেশে পাওয়া ভাইরাসের ধরন থেকে নিজেদেরকে নিরাপদ রাখতে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলারও পরামর্শ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা ঈদে কোথাও না গিয়ে নিজের ঘরে থাকলে কি ক্ষতি হয়? আপনারা ছুটাছুটি না করে যে যেখানে আছেন – সেখানেই থাকেন। সেখানেই নিজের মতো করে ঈদ উদযাপন করুন।’

তিনি বলেন, ‘আমি জানি, ঈদের সময় মানুষ পাগল হয়ে গ্রামে ছুটছেন। কিন্তু আপনারা যে একসঙ্গে যাচ্ছেন, এই চলার পথে ফেরি বা গাড়ি যেখানে হোক, কার যে করোনাভাইরাস আছে – আপনি জানেন না। কিন্তু আপনি সেটা বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন আপনার পরিবারের কাছে। মা-বাবা, দাদা-দাদী – যে-ই থাকুক, আপনি তাঁকেও সংক্রমিত করবেন এবং তাঁদের জীবনকেও মৃত্যু ঝুঁকিতে ফেলে দেবেন।’

প্রধানমন্ত্রী রোববার (৯ মে)  রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) পূর্বাচল নিউ টাউন প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত ১,৪৪০ মূল বাসিন্দা ও সাধারণ মানুষকে প্লট বরাদ্দ পত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে ভাষণে এ-কথা বলেন। খবর স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের।

প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা একটু ধৈর্য্য ধরেন এবং সাথে সাথে নিজের ও পরিবারের ভালো চিন্তা করেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘করোনাভাইরাসের সময় আপনারা মাস্ক পরে, সাবধানে থাকবেন। কারণ, নতুন ভাইরাস এসেছে। এটা আরও বেশি ক্ষতিকারক। সেজন্য আপনি নিজে সুরক্ষিত থাকেন, অপরকে সুরক্ষা দেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন রমজান মাস, আমরা রোযা রাখছি। রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া করেন, এই করোনাভাইরাস থেকে যেন আমাদের দেশ ও মানুষ মুক্তি পায়, আর যেন প্রাণহানি না হয়। কারণ আপনারা দেখেছেন শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বব্যাপী আজ করোনায় কত মানুষ মারা যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেশি দেশে প্রতিনিয়ত মারা যাচ্ছে। এই প্রতিবেশি দেশে যখন হয়, তখন স্বাভাবিকভাবে আমাদের দেশে আসতে পারে। সেজন্য আগে থেকেই আমাদের নিজেদের সুরক্ষিত থাকতে হবে এবং সেভাবে চলতে হবে, যাতে সবাই এই করোনাভাইরাস থেকে বেঁচে থাকতে পারে।’

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরিফ আহমেদ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, সচিব শহীদ উল্লাহ খন্দকার ও রাজউক চেয়ারম্যান এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড.আহমদ কায়কাউস গণভবন থেকে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরিফ আহমেদ প্লটের বরাদ্দপত্র গ্রহীতাদের থাতে তুলে দেন। এই প্রকল্পের উপর অনুষ্ঠানে একটি ভিডিওচিত্রও প্রদর্শিত হয়।

তিনি বলেন, ‘যাঁদের এত বিশাল বিশাল অট্টালিকা,বাড়িঘর ফ্ল্যাট সবই আছে, তাঁদের আরও লাগবে কেন? এই ধন-সম্পদ কেউ সাথে নিয়ে যেতে পারবে না। এই কথাটা মানুষ কেন ভুলে যায়, আমি জানি না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শহর গড়ে তুলতে চাই। আমাদের দেশে যাঁরা বিত্তশালী, তাঁরা প্লট কেনেন। ভালো ভালো দৃষ্টিননন্দন বাড়ি-ঘর বানান। যখন পূর্বাচল শুরু হলো, তখন আমি দেখেছি, গুলশান, বারিধারায় বিশাল বিশাল অট্টালিকা যাঁদের, তাঁদেরও পূর্বাচলে একটা প্লট না থাকলে নাকি ইজ্জতই থাকে না। এ-রকমও কিছু কিছু মানুষের মানসিকতা আমি দেখেছি। কিন্তু যাঁরা সত্যিকারের প্রাপ্য, তাঁরা বঞ্চিত ছিলেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের সবসময় একটা প্রচেষ্টা ছিল-যে, কিভাবে আপনাদের বঞ্চনার হাত থেকে মুক্তি দেবো। আপনারা জমি দিয়েছেন, অথচ আপনারা প্লট পাবেন না – এটা হতে পারে না।’

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে পূর্বাচলে জাতির পিতার স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটা প্রকল্প অনুমোদন চেয়ে প্রস্তাব এসেছিল; যার অনুমোদন সরকার-প্রধান দেননি বলেও অনুষ্ঠানে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘সেই ফাইলে আমি লিখে দিয়েছিলাম, এখানকার যাঁরা আদিবাসী, তাঁরা প্লট পাবে, তারপর আমি প্রকল্পের অনুমোদন দেবো। তার আগে কোনো প্রকল্পের অনুমোদন দেবো না এবং কিভাবে প্লট বের করবে – সেটা যেন মন্ত্রণালয় বা রাজউক খুঁজে বের করে। সেই নির্দেশই আমি দিয়েছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি এইটুকু চাই,বাংলাদেশের একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। যেটুকু পারি, যেভাবে পারি একটা মানুষকে একটা ঘর, একটা মাথা গোজার ঠাই সেটা আমরা করে দেবো এবং প্রত্যেক ঘরেই বিদ্যুৎ থাকবে, আলো জ্বলবে। প্রতিটি পরিবারেই শিক্ষিত মানুষ থাকবে, লেখাপড়া শিখবে।’

যুব-সমাজকে আত্ননির্ভরশীল করে গড়ে তোলার প্রত্যয়ের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, সেই লেখাপড়া শুধু কেতাবি পড়া না। সাথে সাথে ভোকেশনাল ট্রেনিং ও কারিগরি শিক্ষা নিতে হবে, যেন কর্মসংস্থান হয়। শুধু বিএ, এমএ পাশ করলে হবে না।

তিনি বলেন, ‘চাকরির পেছনে ঘুরলে হবে না। নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। নিজেরা যেন চাকরি দিতে পারে, সেভাবে নিজেদেরকে গড়তে হবে। আমরা সেইভাবে এদেশের যুব সমাজকে গড়ে তুলতে চাই।’

Loading...