loader image for Bangladeshinfo

ব্রেকিং নিউজ

  • যুক্তরাজ্যের ভ্রমণ লাল-তালিকায় আর নেই বাংলাদেশ

  • নভেম্বর থেকে ইউএস-বাংলার ঢাকা-মালে ফ্লাইট শুরু

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল খুলবে ৫ অক্টোবর

  • ছয় ঘণ্টা নয়, চার ঘণ্টা বন্ধ থাকবে সিএনজি ফিলিং স্টেশন

  • টেকসই ভবিষ্যত নিশ্চিতে প্রধান অর্থনীতির দেশগুলোর ভূমিকা চান প্রধানমন্ত্রী

তামিমের সেঞ্চুরিতে টাইগারদের জিম্বাবুয়ে হোয়াইটওয়াশ


তামিমের সেঞ্চুরিতে টাইগারদের জিম্বাবুয়ে হোয়াইটওয়াশ

সংক্ষিপ্ত স্কোর

জিম্বাবুয়ে: ৪৯.৩ ওভারে ২৯৮ (চাকাভা ৮৪, বার্ল ৫৯, রাজা ৫৭; মুস্তাফিজ ৫৭-৩, মাহমুদুল্লাহ ৪৫-২, তাসকিন ৪৮-১, সাইফ ৮৭-৩, সাকিব ৪৬-১)
বাংলাদেশ: ৪৮ ওভারে ৩০২/৫ (তামিম ১১২, সোহান ৪৫*, লিটন ৩২, সাকিব ৩০, মিঠুন ৩০; জঙ্গুয়ে ৪৪-১, টিরিপানো ৬১-২, মাধেভেরে ৪৫-২)

স্বাগতিক জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে মঙ্গলবার (২০ জুলাই) সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে আফ্রিকার দলটিকে অধিনায়ক তামিম ইকবালের দুর্দান্ত শতরানে পাঁচ উইকেটে পরাজিত করেছে টাইগাররা। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে লিটন দাসের সেঞ্চুরিতে (১০২) ১৫৫ রানে এবং দ্বিতীয় ম্যাচে সাকিব আল হাসানের অপরাজিত ৯৬ রানের সুবাদে তিন উইকেটে জিতেছিল বাংলাদেশ।

এদিন টসে হেরে আগে ব্যাটিং করে ৪৯.৩ ওভারে ২৯৮ রান সংগ্রহ করে জিম্বাবুয়ে। তামিমের ১১২ রানে ভর করে দুই ওভার বাকি থাকতেই পাঁচ উইকেটে ৩০২ রান করে বাংলাদেশ। ৯৭ বলের ইনিংসে আটটি বাউন্ডারি ও তিনটি ওভার বাউন্ডারি মেরেছেন তামিম।

জয়ের জন্য ২৯৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে সাবলীল ব্যাটিং করে দলীয় অর্ধশত তুলে নেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। চাতারার শর্ট বল পুল করে ফাইন লেগ দিয়ে ছক্কা হাঁকান তামিম। পরের বলটি অনড্রাইভে চার। ওভারের শেষ বলটি ডিপ কভার দিয়ে আরেকটি বাউন্ডারি। শেষ তিন বলে ১৪ রানের আগে ওভারের প্রথম দুই বলে এসেছে পাঁচ রান। ফলে, চাতারার করা অষ্টম ওভারে বাংলাদেশ পেয়ে যায় ১৯ রান। একই সঙ্গে আট ওভারে দলীয় ৫০ রান তুলে নেয় বাংলাদেশ।

সিকান্দার রাজার সপ্তদশ ওভারের তৃতীয় বল লং অনে পাঠিয়ে এক রান নেন তামিম। এই সিঙ্গেলে বাংলাদেশের দলীয় রান ১০০ স্পর্শ করে।

দুই ওপেনার তামিম ও লিটন ৮৮ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন। এ-সময়ে তামিম তুলে নেন ফিফটি। তবে, লিটন ৩২ রানের বেশি করতে পারেননি। মাধভেরের বল সুইপ করতে গিয়ে ফাইন লেগে ক্যাচ দেন। তামিম ৫২তম ওয়ানডে ফিফটি পেয়েছেন ৪৬ বলে। এজন্য চারটি চার ও দুইটি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। তামিমের নতুন সঙ্গী দ্বিতীয় ম্যাচের নায়ক সাকিব।

স্পিনার মাধভেরের বল এগিয়ে এসে কভার দিয়ে ছক্কা মারেন তামিম। ৪৭ থেকে তামিম ও সাকিবের জুটির রান ৫৩। এই জুটির ষোড়শ ফিফটি এটি।  তিনটি সেঞ্চুরির ইনিংসও রয়েছে তাঁদের।

সাকিব আল হাসানকে ফিরিয়ে আনন্দে মাতে জিম্বাবুয়ে। পেসার লুক জংওয়ের অফস্টাম্পের বাইরের লেন্থ বল কাট করতে গিয়েছিলেন সাকিব, তবে টাইমিং মেলাতে পারেননি; বল যায় চাকাবার হাতে। জিম্বাবুয়ের খেলোয়াড়দের জোরালো আবেদেন আম্পায়ার সাড়া দেন। সাকিব অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন! তামিমের সঙ্গে ৬৮ বলে ৫৯ রানের জুটি গড়ে সাকিব সাজঘরে ফেরেন। জুটিতে তাঁর অবদান ৩০ রান।

চাতারার লেন্থ বল লং অন দিয়ে সীমানার বাইরে পাঠান তামিম; ৯৬ থেকে তাঁর রান পৌঁছে গেল ১০০তে। ১২ ইনিংস পরে তামিম ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি পেলেন। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি তাঁর চতুর্দশ সেঞ্চুরি; জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চতুর্থ। ৮৭ বলে সেঞ্চুরিতে পৌঁছেছেন তামিম। ওয়ানডেতে এটি তাঁর দ্রুততম সেঞ্চুরি আর দেশের বাইরে তাঁর সপ্তম এবং অধিনায়ক হিসেবে ১৫ ইনিংসে প্রথম। এর আগে ২০১০ সালে ৯৪ বলে সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন তিনি।

দ্বিতীয় বিরতির পরে জোড়া সাফল্য পায় জিম্বাবুয়ে। তামিম ও মাহমুদউল্লাহ ফেরেন টিরিপানোর এক ওভারে। ডানহাতি পেসারের অফস্টাম্পের বাইরের বল খোঁচা মারতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তামিম। পুরো ইনিংসে দুর্দান্ত ব্যাটিং করা তামিম মনোযোগ হারিয়ে আলগা শট খেলেছেন।

তামিমের আউটের পরের বলেই সাজঘরের পথ ধরেন মাহমুদউল্লাহ। ডানহাতি ব্যাটসম্যান টিরিপানোর ভেতরে ঢোকানো বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। ক্যারিয়ারের ২০০তম ওয়ানডে খেলতে নেমে গোল্ডেন ডাক সঙ্গী করেন মাহমুদউল্লাহ।

মোহাম্মদ মিঠুন ও নুরুল হাসান সোহানের জুটিতে পরপর দুই বলে তামিম ও মাহমুদউল্লাহকে হারানার ধাক্কা ভালোই সামাল দিয়েছে বাংলাদেশ; হয়ে যায় ইনিংসের চতুর্থ অর্ধশত জুটি।

প্রায় সাড়ে চার বছর পরে ওয়ানডে খেলতে নামা সোহানের দারুণ ব্যাটিংয়েই এরপর এগোচ্ছিল তামিমের দল। এক ইনিংসে চারটি পঞ্চাশ-ছোঁয়া জুটি এই নিয়ে চারবার পেলো বাংলাদেশ। আগের তিনবার ছিল, ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ফতুল্লায়, ২০১৮ সালে শ্রীলংকার বিপক্ষে মিরপুরে ও ২০১৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ডাবলিনে।

একটুও স্বস্তিতে খেলতে পারছিলেন না মোহাম্মদ মিঠুন, তবু লড়াই করে টিকে ছিলেন। কিন্তু হুট করেই আত্মঘাতী শট খেলে বসলেন। সমীকরণ যখন খুব সহজ, ৩১ বলে প্রয়োজন ৩১ রান, মাধেভেরের বলে বেরিয়ে এসে উড়িয়ে মারলেন মিঠুন। অবশ্য, টাইমিং করতে পারেননি; লং অফে ক্যাচ নেন চাতারা। ৫৭ বলে ৩০ রান করে শেষ হলো মিঠুনের ইনিংস। সোহানের নতুন সঙ্গী হন আফিফ হোসেন।

সোহান ও আফিফ হোসেনের জুটি অনায়াসেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। লুক জংওয়ের বলে টানা দুই বলে ছক্কা ও চারে জয় ধরা দিল ১২ বল বাকি থাকতেই। ৩৯ বলে ৪৫ রানে অপরাজিত সোহান, ১৭ বলে অপরাজিত ২৬ আফিফ।

এই জয়ে ওয়ানডে সিরিজ ৩-০তে জিতে নিল বাংলাদেশ। আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ সুপার লিগে প্রত্যাশিত ৩০ পয়েন্টও এলো। 

এর আগে, রেগিস চাকাবা, সিকান্দার রাজা ও রায়ান বার্লের হাফ সেঞ্চুরিতে ২৯৮ রানের বড় সংগ্রহ পায় স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। টস জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধন্ত নেন টাইগার-অধিনায়ক তামিম। পরপর দুই ম্যাচে টস হারের পরে অবশেষে কয়েন-ভাগ্য নিজের পক্ষে আনতে পেরেছেন অধিনায়ক।

ব্যাটিংয়ে শুরুটা দারুণ করে জিম্বাবুয়ে। দুই ওপেনার রেগিস চাকাবা ও তাদিওয়ানাশে মারুমানি সাবধানী ব্যাটিংয়ে দলের রান বড় করেছেন। নিয়মিত বিরতিতে এসেছে  বাউন্ডারি।

নবম ওভারে সাকিবের হাতে বল তুলে দেন তামিম। এর আগে তাসকিন ও সাইফউদ্দিনকে দিয়ে বোলিং শুরু করেছিলেন। এরপর মেস্তাাফিজ ও মাহমুদউল্লাহকেও নিয়ে এসেছেন। কিন্তু কেউ ব্রেক থ্রু দিতে পারেননি। সাকিব প্রথম ওভারেই সেই কাজটা করলেন। তাঁর বল সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন আট রান করা মারুমানি।

এরপর নিজের ২০০তম ওয়ানডেতে দলকে সবচেয়ে কাঙ্খিত উইকেটটি এনে দেন মাহমুদউল্লাহ; ফেরান জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেইলরকে।

পাওয়ার প্লের মধ্যে একটি ওভার করার পরে মাহমুদউল্লাহ দ্বিতীয়বার বল হাতে নেন অষ্টাদশ ওভারে, ফিরেই পেয়েছেন সাফল্য। উইকেটে অবশ্য বোলারের কৃতিত্বের চেয়ে টেইলরের শটের ব্যর্থতাই বেশি। অফ স্টাম্পে থাকা একটি সাধারণ ডেলিভারিতে লফটেড ড্রাইভ খেলতে গিয়ে তিনি সহজ ক্যাচ তুলে দেন, বল হাতে নেন তামিম।

৩৯ বলে ২৮ রানে ফিরলেন টেইলর। রেজিস চাকাভার সঙ্গে তাঁর দ্বিতীয় উইকেট জুটি থামে ৪২ রানে।

ব্রেন্ডন টেইলরকে শিকার করে আড়াই বছর পরে ওয়ানডে উইকেটের স্বাদ পেলেন মাহমুদউল্লাহ। এর আগে, ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কেন উইলিয়ামসনের উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। এরপর আঘাত আর নানা কারণ মিলিয়ে তাঁর বোলিংই করা হয়েছে কম। মাঝের এই লম্বা সময়ে শুধুমাত্র আট ইনিংসে বোলিং করেছেন তিনি, তা-ও এক-দুই ওভার।

তৃতীয় উইকেট জুটিতে ভালোই করছিলেন জিম্বাবুইয়ান দুই টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান রেগিস চাকাভা ও ডিওন মায়ার্স। নিজের তৃতীয় স্পেলে বল করতে এসে সেই জুটি ভাঙেন রিয়াদ। ডিওন মায়ার্স করেন ৩৪ রান। পরের ওভারেই ওয়েসলে ম্যাধেভেরেকে তিন রানে ফেরান মুস্তাফিজ।

প্রথম স্পেলে চার ওভারে ১৮ রান দিয়ে মুস্তাফিজ ছিলেন উইকেটশূন্য। দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে এসে দ্বিতীয় ওভারে পেলেন উইকেটের স্বাদ। তাঁর স্লোয়ার বলে আগে ব্যাট চালিয়ে সাকিবের হাতে সহজ ক্যাচ দেন ওয়েসলি মাধভেরে। ১০ বলের ব্যবধানে বাংলাদেশ পায় দুই সাফল্য। মাহমুদউল্লাহ চাকাবা ও মায়ার্সের  ৭১ রানের জুটি ভাঙার পরে মুস্তাফিজ ফেরান মাধভেরেকে।

ক্যারিয়ার-সর্বোচ্চ রান তুলে সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে যাচ্ছিলেন রেগিস চাকাবা। কিন্তু মনোযোগ ধরে রাখতে পারলেন না। তাসকিনের গতিতে পরাস্ত হয়ে উইকেট হারান। তাঁর ফুলার লেন্থ বল লেগ সাইডে ফ্লিক করতে চেয়েছিলেন; কিন্তু বাড়তি গতিতে টাইমিং মেলাতে পারেননি। দুর্বল এক শটে শেষ হয় প্রতিশ্রুতিশীল ইনিংস। তাসকিন পেলেন ম্যাচের প্রথম উইকেট। ৯১ বলে ৭ চার ও এক ছক্কায় ৮৪ রান করে চাকাবা ফেরেন সাজঘরে।

এরপরই রায়ান বার্লকে জীবন দেন সাকিব। ডিপ ফাইন লেগে জিম্বাবুয়ান ব্যাটসম্যানের ক্যাচ ছেড়ে দিলেন। তাতে হলো চার এবং দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরিও পেয়ে গেলেন বার্ল, ৩৮ বল খেলে।  ৪৮ তম ওভারে সিকান্দারকে মোসাদ্দেক হোসেনের ক্যাচ বানান মুস্তকাফিজুর রহমান। ৫৪ বলে ৭ চার ও ১ ছয়ে ৫৭ রান করেন ৩৫ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান। ষষ্ঠ উইকেটে ৮০ বলে ১১২ রানের জুটি গড়েন সিকান্দার ও বার্ল।

৪৯ তম ওভারে তিন উইকেট নিলেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। প্রথম বলে রায়ার্ন বার্ল তাকে ছক্কা হাঁকান। পরের বলে তাকে লিটন দাসের ক্যাচ বানান। ৫৯ রানে ফেরেন বার্ল। পরের বলে ডোনাল্ড তিরিপানোকে করেন বোল্ড। তেন্দাই চাতারা হ্যাটট্রিক হতে দেননি; তবে, দুই বল পরই বোল্ড হন এক রানে।

শেষ ওভারে ব্লেসিং মুজারাবানিকে শূন্য রানে বোল্ড করেন মুস্তাফিজুর রহমান। এতে তিন বল বাকি থাকতে গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ানরা।

Loading...