loader image for Bangladeshinfo

শিরোনাম

  • ম্যানসিটি ও আর্সেনালের জয়ের দিনে ম্যানইউ’র পরাজয়

  • পিএসজি’র বড় জয়ে নেইমারের দুই গোল

  • বার্সার মৌসুম শুরু রায়োর কাছে পয়েন্ট হারিয়ে

  • বোর্নম্যাথকে উড়িয়ে ম্যানসিটির দ্বিতীয় জয়

  • টি-২০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত অধিনায়কত্ব পেলেন সাকিব

শিল্পকলা একাডেমিতে মাসব্যাপী পঞ্চম জাতীয় ভাস্কর্য প্রদর্শনী


শিল্পকলা একাডেমিতে মাসব্যাপী পঞ্চম জাতীয় ভাস্কর্য প্রদর্শনী

পঞ্চম জাতীয় ভাস্কর্য প্রদর্শনী সোমবার (২৯ নভেম্বর) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হবে। একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে বিকেল চারটায় প্রদর্শনী উদ্বোধন করবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। জাতীয় চিত্রশালার সেমিনার কক্ষে রোববার অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রদর্শনীর বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি সচিব মো. আবুল মনসুর, ভাস্কর হামিদুজ্জামান খান এবং শিল্পী অলক রায়। সভাপতিত্ব করবেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। খবর স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের।

সংবাদ সম্মেলনে মহাপরিচালক বলেন, বাংলাদেশে ভাস্কর্য শিল্পের চর্চা ষাট বছরেরও অধিক সময় অতিক্রম করেছে। বিগত শতকের পঞ্চাশ দশকের শেষ দিকে নভেরা আহমেদের মাধ্যমে এদেশে আধুনিক ভাস্কর্যচর্চার সূচনা ঘটে। তিনি জানান, পরবর্তী সময়ে ষাট দশকের প্রথমার্ধে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের সহচর্যে শিল্পী আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে ঢাকার তৎকালীন চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে ভাস্কর্যের প্রাতিষ্ঠানিক চর্চা আরম্ভ হয়, যা বর্তমানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে স্বতন্ত্র বিভাগে পরিণত হয়েছে। এর পাশাপাশি মৃৎশিল্প ও অন্যান্য শিল্প মাধ্যমের অনেকেই ভাস্কর্য চর্চা করে চলেছেন। দেশে বর্তমানে একটি সমৃদ্ধ ও সক্রিয় ভাস্কর্য শিল্পীগোষ্ঠীর উপস্থিতি রয়েছে।

মহাপরিচালক জানান, শিল্পীদের অনেকেই মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও ভাষা আন্দোলনকে বিষয়বস্তু করে তাৎপর্যপূর্ণ ভাস্কর্য তৈরি করেছেন। কিন্তু তারপরও বাংলাদেশের সমাজ-বাস্তবতায় ভাস্কর্য সম্পর্কে জনমানসে এখনও অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তি রয়েছে। শক্তিশালী এই শিল্প মাধ্যমটির সুরক্ষা, বিকাশ ও বিস্তৃতির কথা চিন্তা করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি জাতীয়, নবীন ও এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীর পাশাপাশি আলাদাভাবে জাতীয় ভাস্কর্য প্রদর্শনী আয়োজনের পরিকল্পনা গ্রহণ করে।

একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার গ্যালারিতে প্রদর্শনীটি চলবে ২৯ নভেম্বর থেকে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত, প্রতিদিন সকাল ১১টা (শুক্রবার বিকেল তিনটা) থেকে রাত আটটা পর্যন্ত।

একাডেমি সূত্র জানায়, ধারাবাহিকভাবে ভাস্কর্য চর্চায় উৎসাহ, বিকাশমান চর্চার সুরক্ষা ও বিস্তারে সহায়তা প্রদান করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে ১৯৭৬ সালে প্রথম এবং ১৯৮৩ সালে দ্বিতীয় জাতীয় ভাস্কর্য প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ ৩১ বছর বিরতির পরে ২০১৪ সালে তৃতীয় জাতীয় ভাস্কর্য প্রদর্শনী এবং ২০১৮ সালে চতুর্থ ভাস্কর্য প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এ-বছর পঞ্চমবারের মতো হতে যাচ্ছে জাতীয় ভাস্কর্য প্রদর্শনী। 

এবারের প্রদর্শনীতে সারাদেশ থেকে ২১ বা তদুর্ধ্ব বয়সী ১৩৫ জন শিল্পীর মোট ২৫৪ টি শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর জন্য জমা পড়েছে। এরমধ্য থেকে বাছাই করে ১০৭ জন শিল্পীর মোট ১১৪ টি শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। এছাড়া, ১৬জন আমন্ত্রিত এবং প্রয়াত পাঁচজন পথিকৃৎ ভাস্করের একটি করে ভাস্কর্যের প্রদর্শনীতে উপস্থাপন করা হবে। এছাড়া, স্বাধীনতার সুবর্ণজন্তী উপলক্ষে একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ভাস্কর্য কর্নার থাকবে।

আমন্ত্রিত ১৬ জন ভাস্কর হলেন – হামিদুজ্জামান খান, অলক রায়, শামীম শিকদার, আইভি জামান, মজিবুর রহমান, রাসা, মাহবুব জামাল শামিম, সাইদুল হক জুইস, শেখ সাদি ভূইয়া, শ্যামল চৌধুরী, চৌধুরী জাহানারা পারভীন, রেজাউজ্জামান রেজা, মোস্তফা শরীফ আনোয়ার তুহিন, মাহবুবুর রহমান, প্রণবমিত্র চৌধুরী, মুকুল কুমার বাড়ৈ, নাসিমা হক মিতু। প্রয়াত পাঁচজন পথিকৃত ভাস্কর হলেন – আব্দুর রাজ্জাক, আনোয়ার জাহান, নিতুন কুন্ডু, সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদ, ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী।

সূত্র আরও জানায়, জাতীয় ভাস্কর্য প্রদর্শনীতে ইতিপূর্বে পাঁচজন শিল্পীকে পুরস্কার দেওয়া হলেও এ-বছর ১৩ জন শিল্পীকে পুরস্কৃত করা হবে। পুরস্কার হিসেবে থাকবে পঞ্চম জাতীয় ভাস্কর্য পুরস্কার-২০২১ শ্রেষ্ঠ পুরস্কার একটি, যার মূল্যমান দুই লাখ টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কার একটি, যার মূল্যমান এক লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, তৃতীয় পুরস্কার একটি, যার মূল্যমান এক লক্ষ টাকা। এছাড়া, ১০টি সম্মানসূচক পুরস্কার, যার প্রতিটির মূল্যমান ৫০ হাজার টাকা। পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেককে একটি ক্রেস্ট ও একটি সনদপত্র প্রদান করা হবে।

Loading...