loader image for Bangladeshinfo

ব্রেকিং নিউজ

  • সাহারা খাতুন হাসপাতালে ভর্তি

  • কোভিড-১৯ চিকিৎসায় উত্তরায় ৩০০ শয্যার হাসপাতাল উদ্বোধন

  • মাস্ক পরার নতুন পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

  • মোহাম্মদ নাসিমের অবস্থা সংকটাপন্ন, ৭২ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে

  • দেশে করোনায় ২৪ ঘন্টায় ৩৫ জনের মৃত্যু, ২৬৩৫ জন শনাক্ত, সুস্থ ৫২১ জন

নাই পানির অপর নাম ভয়ঙ্কর জীবন!


নাই পানির অপর নাম ভয়ঙ্কর জীবন!

পানির অপর নাম জীবন! কিন্তু অবাক করার মত বিষয় সর্বশেষ একটি জরিপে দেখা গেছে সমগ্র বিশ্বব্রক্ষান্ডে প্রায় ৭৬ কোটিরও বেশি মানুষ সুপেয় পানির অধিকার থেকে বঞ্চিত, যাদের মধ্যে আড়াই কোটিরও বেশি আমরা বাংলাদেশিরা। বিগত ২০১১ সালের বিশ্ব পানি দিবসে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়- তেল কিংবা গ্যাস নয়, আগামীতে যুদ্ধ হলে তার বিষয়বস্তু হবে “পানি”! সীমান্ত দেশগুলো যেমন তুর্কি-সিরিয়া ও ইরাকের মধ্যে ইউফেটিস নিয়ে বিরোধ, লেবানন ও ইসরায়েল এর মধ্যে হাসবানি নদীর পানি নিয়ে, সিরিয়া এবং ইসরায়েলের মধ্যে গ্যালিলি সাগর নিয়ে, ইসরায়েল-ফিলিস্তান ও জর্দানের মধ্যে জর্দান নদী নিয়ে সুদান-মিশর-ইথিওপিয়া ও আরো কিছু দেশের মধ্যে নীলনদ নিয়ে, ইরান ও আফগানিস্থানের মধ্যে হেলম্যান্ড নদী নিয়ে আর বাংলাদেশ-ভারতের তিস্তা ইস্যুতে বিবাদের শেষ নেই। পানি নিয়ে তেমনই এক বিবাদের গল্প উঠে এলো এবারে সেলুলয়েডের পর্দায়।

ভয়ঙ্কর সুন্দর শিরোনামের বাংলাদেশী একক প্রযোজনার ছবিটি পরিচালনা করেছেন অনিমেষ আইচ। পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্য অকাদেমী পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক মতি নন্দীর ‘জলের ঘূর্ণি ও বকবক’ গল্প অবলম্বনে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার এ ছবিটিতে অভিনয় করেছেন ভারতীয় অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের ও এদেশের আশনা হাবিব ভাবনা।

বাড়ি থেকে পালিয়ে আসা বড়লোকের আহ্লাদি মেয়ে নয়নতারা আশ্রয় নেয় পুরনো ঢাকার একটি হোটেলে। যেখানকার রুম সার্ভিস বয় হারাধন ঘোষ মুকুর সঙ্গে তার অল্পদিনেই নাটকীয়ভাবে একরকম সখ্যতা গড়ে ওঠে। ঘটন-অঘটনের প্রসঙ্গক্রমে তারা দুজন আশ্রয় নেয় ঢাকা শহরের নিম্ন আয়ের এক কলোনিতে যেখানে খাবার পানির দুষ্প্রাপ্যতা রয়েছে। গ্রীষ্মকালে সেই এলাকায় পানির সংযোগ কিছুদিনের জন্য বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। নয়ন-মুকুর প্রতিবেশীদের পানির সঞ্চয় থাকলেও তাদের পড়তে হয় চরম পানিসংকটে। এমনকি পানি চাইতে গিয়ে নয়নকে পাশের বস্তির মহিলাদের কাছে লাঞ্ছিতও হতে হয়। ছবির মধ্যভাগের পর নয়ন পানি নিয়ে অনেকটা প্রতিশোধপরায়ণ ও মানসিক বিকারগ্রস্থ হয়ে পড়ে ও অভিনব উপায়ে পূর্বে পানি নিয়ে তার হেনস্থা হওয়ার প্রতিশোধ নেয়।

সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার জেনারে এমন উদ্ভট গল্পের অবতারনা খানিকটা প্রাসঙ্গিক বটে। তবে উদ্ভট গল্পের পাশাপাশি ছবিতে আর কি কি আছে সেখানেও দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। ছবির সবচেয়ে ভালো দিক এর শক্তিশালী ও ব্যতিক্রমী প্লট। অভিনয়শিল্পীদের অভিনয়, শিল্প নির্দেশনা, কিছু কিছু ক্ষেত্রে দৃশ্যধারন দূর্দান্ত হয়েছে। চিল যেমন তপ্ত মরুর বুকে খাবার খুঁজে বেড়ায়, বার্ডস আই ভিউতে ঢাকার নিম্ন আয়ের বসতি এলাকাগুলোকে অনেকটা তেমনই লেগেছে। ছবিতে ব্যবহৃত মমতাজ, তাহসান, চিরকুট ও অদিত-শোয়েবের গাওয়া চারটি গানই বেশ শ্রুতিমধুর। বাড়িকে পানির গুদাম বানিয়ে শোয়ার খাটকে পর্যন্ত সিলিং-এর উপরে নিয়ে যাওয়ার আইডিয়া এবং এক্সিকিউশন দূর্দান্ত লেগেছে। এ যেন পানির উপর ঘুমানো, পানির উপরে খাওয়া।

তবে তুলনামূলক ছোট দৈর্ঘ্যের ছবিটিতে হতাশার অনেকগুলো দিকও আছে। ছবির চরিত্রগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়ে এর মূল কাহিনী শুরু হতে লেগে গিয়েছে প্রায় ইন্টারভাল।  ছবির আসল ইলিমেন্ট মানে পানির অভাবের ভয়াবহতার বিষয়ে ভাবনার অবকাশ তুলনামূলক কমই পাওয়া গিয়েছে ভাবনা অভিনীত এ ছবিটিতে। আমজাদ হোসেনের ‘ভাত দে’ ছবিতে খাদ্যাভাবের চিত্র যেভাবে বড় ক্যানভাসে ফুটে ওঠানো হয়েছিলো ভয়ঙ্কর সুন্দর ছবিতে পানির অভাবের ব্যপ্তি তেমনটা নেই। ছবির শেষদিকে ব্যাটলফিল্ড দৃশ্যটি এমন হুট করে শেষ হয়ে যাওয়া হতাশ হয়েছে অনেক দর্শক। ছবির বিভিন্ন দৃশ্যে সাসপেন্সের দেখা মিললেও সেগুলোর ছিলোনা কোন যথোপযুক্ত সমাপ্তি। নির্মাতা ঋত্বিক ঘটক চাইতেন দর্শকদের মস্তিস্কে ধাক্কা দিয়ে, হাতুড়ি মেরে ছবির গল্পের থিসিসকে বোঝাতে। অনিমেষও বোধহয় সেই পথে এগিয়েছেন। তবে চলচ্চিত্রবোদ্ধা কিংবা সাধারন দর্শকমহলে এই হাতুড়ি মারার থিউরিটা কতোটা গ্রহনযোগ্যতা পেলো সেটা নাহয় সময়ই বলে দেবে।

এদেশে বানানো বানিজ্যিক ছবিগুলো দর্শকহীনতার মূল কারন ছবিগুলো প্রেজেন্টেবল নয়। তবে শুধুমাত্র ছবিকে প্রেজেন্টেবল করাই যে শেষ কথা নয়, দেয়ার ইজ সামথিং মোর। ব্যাপারখানা হারে হারে টের পাওয়া গেছে ভয়ঙ্কর সুন্দর ছবিতে। স্যাটেলাইট-ইন্টারনেটের এ যুগে দর্শককে সন্তুষ্ট করা যে খুব সহজ একটা কাজ না তা আর বলে দিতে হয়না। তবে আমাদের চলচ্চিত্র ইন্ড্রাষ্ট্রির এই দৈন্যদশায় ব্যতিক্রমী প্লটে বানানো ‘ভয়ঙ্কর সুন্দর’ একটি ভালো নির্মান প্রচেষ্টা। ছবিটি চলছে ঢাকাসহ নানা প্রেক্ষাগৃহে। সুন্দর কি করে ভয়ঙ্কর হয় অন্তত সেটা জানতেও প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দেখে আসতে পারেন ছবিটি। ভালো লাগুক-মন্দ লাগুক, ভয়ঙ্কর সুন্দর আমাদের ছবি, দেশীয় নির্মানের ছবি।

লেখক: মোঃ আলতামিশ নাবিল

Loading...