loader image for Bangladeshinfo

শিরোনাম

  • কাতার বিশ্বকাপের শেষ ষোলো পর্ব শনিবার শুরু

  • পর্তুগালকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় দক্ষিণ কোরিয়া; উরুগুয়েের বিদায়

  • ব্রাজিলকে হারিয়েও গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিলো ক্যামেরুন

  • বেলজিয়ামের বিদায়; ৩৬ বছর পরে দ্বিতীয় রাউন্ডে মরক্কো

  • বিশ্বকাপ থেকে জার্মানির বিদায়; শেষ ষোলোতে জাপান-স্পেন

ডেনমার্ককে রুখে দিলো তিউনিসিয়া


ডেনমার্ককে রুখে দিলো তিউনিসিয়া

গত বছর ইউয়েফা ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দুঃসহ এক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল ডেনমার্ককে। ফিনল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালীন মাঠেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে লুটিয়ে পড়েছিলেন ক্রিস্টিয়ান এরিক্সেন। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে হয়তো আর ফিরিয়ে আনা যেত না তাঁকে। ফিনিশদের বিপক্ষে আকস্মিক ওই ধাক্কা সেদিন কাটিয়ে উঠতে পারেনি ডেনমার্ক। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান প্রতিবেশীর কাছে ম্যাচটা হেরেই গেয়েছিল দলটি।

কাতার বিশ্বকাপে মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) অবশ্য নিজেদের প্রথম ম্যাচে কোনো অঘটন-অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সাক্ষী হতে হয়নি ডেনমার্ককে; তবে, দিনটা নিজেদেরও করতে নিতে পারেননি তাঁরা। কেননা, আক্রমণ-প্রতি-আক্রমণের ম্যাচে ড্যানিশদের রুখে দিয়েছে তিউনিসিয়া।

আল রাইয়ানের এজুকেশন সিটি স্টেডিয়ামে ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছে। বাছাইপর্বে দাপট দেখিয়েই বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছিল ডেনমার্ক। ইউরোর সেমিফাইনালে খেলা কাস্পার হিউলমান্দের দলটিকে অনেক ফুটবলবোদ্ধা সবচেয়ে সুসংগঠিত বলেছিলেন। সেই দলটির সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগি করা তিউনিসিয়ার কাছে জয়ের সমানই বটে!

ড্যানিশ কোচ ক্যাস্পার হিউম্যান্ড ৩-৫-২ ছকেই একাদশ সাজিয়েছিলেন। তবে, আক্রমণভাগে ইউসুফ পুল্সেন-মার্টিন ব্রাথওয়েটদের না রেখে খেলিয়েছেন কাস্পার ডোলবার্গকে। তাঁর সঙ্গী ছিলেন উইঙ্গার আন্দ্রেয়াস স্কোভ ওল্সেন। ড্যানিশরা ম্যাচজুড়ে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেছে উইং থেকেই।

কিক অফের পর থেকেই তিউনিসিয়াকে চেপে ধরার চেষ্টা করে ডেনমার্ক। প্রথম মিনিটে কর্নার আদায় করেন এরিকসেন; নিজেই কিকটি নিয়েছেন এই তারকা।

শুরুর ওই আক্রমণের পরে ডেনমার্ক কিছুটা অগোছালো হয়ে পড়ে। সেই সুযোগে প্রতি-আক্রমণে যায় তিউনিসিয়া। ম্যাচের প্রথম বলার মতো সুযোগ সৃষ্টি করে আফ্রিকার দলটিই। ১১ মিনিট মোহাম্মদ দ্রাগার দূরপাল্লার শট আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেনের গায়ে লেগে দিকভ্রান্ত না হলে এগিয়ে যেতে পারতো তিউনিসিয়া।

২০ মিনিটে ভালো সুযোগ পেয়েছিল ডেনমার্ক। ইওয়াকিম ম্যালের প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে দেয় তিউনিসিয়ার শক্ত ডিফেন্স। প্রথম আধঘণ্টায় ড্যানিশরা বেশির ভাগ আক্রমণ করেছে উইং দিয়ে। ডেডলক ভাঙতে না পারায় পরিকল্পনা বদলে উইং ধরে এগোতে থাকে; পরিবর্তন আসে ফ্রি কিকের ক্ষেত্রেও। প্রথমার্ধে কর্নারগুলো এরিকসেন নিলেও ফ্রি কিকগুলো নিয়েছেন ওল্সেন। যাহোক, গোল-বন্ধ্যত্ব কাটেনি।

বরং, ৩৯ মিনিটে কর্নার থেকে পাওয়া সুযোগে প্রায় এগিয়ে গিয়েছিল তিউনিসিয়া, আইসা লাইদুনির নৈপুণ্যে। ২৫ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারকে দেখে মনে হতে পারে, ‘টোটাল ফুটবল’ ফিরিয়ে এনেছেন। নিজেদের বক্স থেকে প্রতিপক্ষের বক্স – সবখানেই ছিলেন তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের শুরুটা করে তিউনিসিয়া। একের পর পর কর্নার আদায় করে ড্যানিশ ডিফেন্সকে ব্যতিব্যস্ত রাখে দলটি। গ্যালারিতে সমর্থকদের গগণবিদারী চিৎকার জালেল কাদরির শিষ্যদের আত্মবিশ্বাসের পালে হাওয়া দিয়েছে অনেক। লাইদুনি ও দ্রাগার কঠিন পরীক্ষায় ফেলে দেন ড্যানিশদের। অবশ্য, সেই পরীক্ষায় উতরে গেছেন হিউম্যান্ড-শিষ্যরা।

শেষ ২০-২৫ মিনিট ডেনমার্কের হয়ে বলতে গেলে একাই লড়েছেন এরিক্সেন। একাই চার-চারটি সুযোগ তৈরি করেছেন প্রায় ‘মৃত্যুর দুয়ার’ থেকে ফিরে আসা তারকা, যা এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। কিন্তু, ভাগ্য তাঁকে সঙ্গ দেয়নি। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকেও পাশে পাননি। টিভি রিপ্লেতে স্পষ্ট হ্যান্ডবল ধরা পড়লেও পেনাল্টি দেন নি রেফারি।

অতিরিক্ত সময়ে একটা সুযোগ প্রায় এসেই গিয়েছিল ডেনমার্কের। তিউনিসিয়ার ডিফেন্ডার মেরিয়ার গায়ে লেগে বল স্পর্শ করে তাঁর হাতে। ভিএআর চেক করার পরে মনিটরে সেই মুহূর্তের দৃশ্য দেখেও পেনাল্টির বাঁশি বাজাননি রেফারি।

Loading...