loader image for Bangladeshinfo

শিরোনাম

  • রোববার পবিত্র শবেবরাত

  • ছায়ানটে সমধারা’র দশম কবিতা উৎসব অনুষ্ঠিত

  • বঙ্গবন্ধু অ্যাপ’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

  • স্টপেজ টাইমের গোলে আর্সেনালকে হারালো পোর্তো

  • চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বার্সার সাথে ড্র করেছে নাপোলি

উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ব্রাজিলকে হারালো আর্জেন্টিনা


উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ব্রাজিলকে হারালো আর্জেন্টিনা

ঐতিহাসিক মারাকানায় প্রথমার্ধে কোনো দলই ছিল না চিরাচরিত ছন্দে। ফাউলের ঘটনায় একাধিকবার ছড়িয়েছে উত্তাপ। গোলের জন্য দুই দলের চেষ্টা সেভাবে দেখা যায়নি। নিষ্প্রভ ছিলেন লিওনেল মেসি। তবে, দ্বিতীয়ার্ধে আসল চেহারায় ফেরে আর্জেন্টিনা। দারুণ এক আক্রমণে পেয়ে যায় গোল। সেই ব্যবধান ধরে রেখে ১-০ গোলের জয় নিশ্চিত করে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দেশটি। কলম্বিয়ার কাছে পরাজয়ের পরে আর্জেন্টিনা বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়াতে চেয়েছিল ব্রাজিল। কিন্তু পরাজয়েই আটকে থাকতে হলো সেলেকাওদের। এতে টানা তিন ম্যাচ হেরে ছয় ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইয়ে পয়েন্ট টেবিলের ছয়ে নেমে গেলো দলটি। পক্ষান্তরে, উরুগুয়ের কাছে পরাজয়ে পরের ম্যাচেই দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ালো আর্জেন্টিনা। আলবেসিলেস্তে ছয় ম্যাচে পাঁচ জয় ও এক পরাজয়ে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে উঠলো।

মারাকানায় মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) ম্যাচ অবশ্য নির্ধারিত সময়ে শুরু হয়নি। শুরুর আগেই গ্যালারিতে ছড়িয়েছে উত্তাপ। ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকরা জড়িয়ে পড়েন সংঘাতে। স্বাগতিক দর্শকদের সঙ্গে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা সমর্থকরা। এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সমর্থকদেরও হাতাহাতি হয়েছে। পুলিশকে লাঠিপেটা করতে দেখা গেছে। পরিস্থিতিতে সামলানোর জন্য গ্যালারির দিকে ছুটে যান লিওনেল মেসি, মার্কোনিওসরা এবং শান্ত হতে বলেন সমর্থকদের। এরপর মেসিরা মাঠ ছেড়ে যান। এতে ম্যাচ পিছিয়ে যায় প্রায় আধ ঘণ্টা।

খেলার আগেই উত্তপ্ত হওয়া স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর পরে মাঠের লড়াইয়েও দুই দলের খেলোয়াড়দের দেখা গেছে একটু ভিন্ন চেহারায়। প্রথমার্ধে ২২টি ফাউল করেছে দুই দল। ব্রাজিল ১৬টি; আর্জেন্টিনা ছয়টি। দুই দলের ফুটবলাররা কথার লড়াইয়েও জড়িয়ে পড়েন। 

দশম মিনিটে প্রথম আক্রমণে উঠে আর্জেন্টিনা। মার্কুস আকুনার শট অবশ্য ব্রাজিলের একজন ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে আটকে যায়। উত্তপ্ত ম্যাচের ১৫ মিনিট যেতে না যেতেই ব্রাজিলের গ্যাব্রিয়েল জেসুস ও রাফিনিয়া হলুদকার্ড দেখেন। অবশ্য, পরে ব্রাজিলও আক্রমণে মনোযোগী হয়। সুযোগ তৈরির চেষ্টায় ছিল দলটি। কিন্তু তেমন সুযোগ তৈরি করতে পারছিলেন না রাফিয়ানিয়া-রদ্রিগোরা। সেরা সুযোগ নষ্ট হয় মধ্যবিরতিতে যাওয়ার একটু আগে। বক্সের সামনে থেকে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির শট গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন ক্রিস্তিয়ান রোমেরো।

দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই আক্রমণে বেশি মনোযোগী হয়। ৫৩ মিনিটে ভালো সুযোগ আসে ব্রাজিলের সামনে কিন্তু তা কাজে লাগাতে পারেননি রাফিনিয়া। ব্রুনো গিমারেসের লম্বা করে বাড়ানো পাস রাফিনিয়া নিয়ন্ত্রণে নিলেও তাঁর শট এগিয়ে এসে ফেরান এমিলিয়ানো মার্টিনেস। একটু পরেই আরেকটি দুর্দান্ত সেভ করেন তিনি।

নিকোলাস ওটামেন্ডি ৬৩ মিনিটে স্টেডিয়াম স্তব্ধ করে দেন। আর্জেন্টিনা এই ডিফেন্ডারের গোলে এগিয়ে যায়। তিনি কর্নার থেকে হেডে জাল খুঁজে স্পর্শ করেন। এরপর ব্রাজিল আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি। উল্টো ৮১ মিনিটে জোয়েলিন্টন লালকার্ড দেখলে দশ জনের দলে পরিণত হয় স্বাগতিক দল। এদিন শেষ পর্যন্ত আরেকটি পরাজয় দেখতে হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দেশটিকে।

আরেক ম্যাচে উরুগুয়ে ডারউইন নুনেজের দুই গোল এবং একটি আত্নঘাতী গোলে বলিভিয়ার বিরুদ্ধে ৩-০ ব্যবধানে জিতেছে। প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়েছে কলম্বিয়া। ইকুয়েডরের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে চিলি। 

আর্জেন্টিনা ছয় ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে রইলো। ব্রাজিল ছয় ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ছয় নম্বরে নেমেছে। ছয় ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে উরুগুয়ে। সমান-সংখ্যক ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে তিনে কলম্বিয়া। ছয় ম্যাচে আট পয়েন্ট নিয়ে পাঁচে ইকুয়েডর।

Loading...