loader image for Bangladeshinfo

ব্রেকিং নিউজ

  • রাসায়নিক গুদাম সরাতে সহযোগিতার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী

  • বেসিস এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ সফটএক্সপোর যৌথ আয়োজক

দুর্দান্ত তামিমে ভর করে বিপিএল জিতলো কুমিল্লা


দুর্দান্ত তামিমে ভর করে বিপিএল জিতলো কুমিল্লা

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ২০১৮-১৯, ফাইনাল ম্যাচ, ৮ ফেব্রুয়ারি, শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম, মিরপুর

সংক্ষিপ্ত স্কোর

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স: ২০ ওভারে ১৯৯/৩ (তামিম ১৪১*, লুইস ৬, এনামুল ২৪, ইমরুল ১৭*;  রাসেল  ০/৩৭, রুবেল ১/৪৮, সাকিব ১/৪৫)
ঢাকা ডায়নামাইট্স: ২০ ওভারে ১৮২/৯ (রনি ৬৬, থারাঙ্গা ৪৮, পোলার্ড ১৩ , নুরুল ১৮, মাহমুদুল ১৫; সাইফুদ্দিন ২/৩৮, ওয়াহাব ৩/২৮, থিসারা ২/৩৫)
ফলাফল: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ১৭  রানে জয়ী
ম্যাচ সেরা: তামিম ইকবাল (কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স)
সিরিজ সেরা: সাকিব আল হাসান (ঢাকা ডায়নামাইট্স)

দুর্ধর্ষ ব্যাটিংয়ে রাজকীয় শতরান করে দলকে রানের পাহাড়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। ফিল্ডিংয়ে ভীষণ দরকারি দুই ক্যাচ ধরেছেন চিতার ক্ষিপ্রতায়। তামিম ইকবাল এদিন যা চেয়েছেন – তা-ই করতে পেরেছেন। ফাইনালের মঞ্চে দলের সেরা তারকার শ্রেষ্ঠ নৈপুণ্যে আসর মাত করে শিরোপা জিতেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ষষ্ঠ আসরের ফাইনালে আগে ব্যাটিং পেয়ে তামিমের ১৪১ রানের সুবাদে ১৯৯ করে কুমিল্লা। লক্ষ্যে পৌঁছাতে রনি তালুকদার ও উপুল থারাঙ্গার ব্যাটিংয়ে দুর্দান্ত শুরুর পর ঢাকা ডায়নামাইট্সকে থামতে হয়েছে ১৮২ রানে। ফলে ১৭ রানে ম্যাচ জিতে দ্বিতীয়বারের মতো বিপিএল-এর শিরোপা জিতলো কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

২০০ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ১২ ওভার পর্যন্ত ম্যাচের লাগাম ছিল ঢাকার হাতেই। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ঢাকাকে স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন রনি তালুকদার। কিন্তু মিডল অর্ডারে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান, কাইরন পোলার্ড ও আন্দ্রে রাসেলের ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত হতাশায় পুড়তে হলো তাঁদের।

ফাইনালের মঞ্চে প্রথমার্ধের পুরোটাই রাঙিয়েছেন তামিম। তাঁর তাণ্ডবে পুরো ২০ ওভার ব্যাট করে ১৯৯ রান করে কুমিল্লা। ৬১ বল খেলে ১৪১ রানে অপরাজিত থেকেছেন তিনি। ১০টি চারের সঙ্গে মেরেছেন ১১টি ছক্কা। ক্রিস গেইলের পর বিপিএল-এর ফাইনালে সেঞ্চুরি করা ক্রিকেটার এখন তামিম।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা অবশ্য মোটেই ভালো হয়নি কুমিল্লার। রুবেল হোসেনের দ্বিতীয় ওভারেই বিদায় নেন লুইস। এরপর সবটুকু আলো নিজের দিকে নিতে থাকেন তামিম। এনামুল হক বিজয় ও ইমরুল কায়েসের সঙ্গে তাঁর বড় দু’টি জুটি হয়েছে। জুটিতেও বেশির ভাগ রানই করেছেন তামিম। 

দ্বিতীয় উইকেটে ৯০ রানের জুটিতে এনামুলের অবদান ২৪। তৃতীয় উইকেটে ইমরুলের সঙ্গে ১০০ রানের জুটিতে ইমরুল করতে পেরেছেন মাত্র ১৭। এই দুই পরিসংখ্যানই বলে দেয় কতোটা আগ্রাসী ছিল তামিমের ব্যাট। ৩১ বলে অর্ধশত রান করার পরে বাকি ১৯ বলে তুলেছেন আরও পঞ্চাশ। শেষ ১১ বলে ৪১। সবদিক বিবেচনাতেই টি-টোয়েন্টিতে কোনো বাংলাদেশির সেরা ব্যাটিং এটি।

তামিমের ব্যাটের ঝাঁজ সবচেয়ে বেশি সহ্য করেছেন রুবেল হোসেন ও আন্দ্রে রাসেল। এই দুজনের দুই ওভার থেকে ২২ করে রান করেছেন তিনি। তামিম ছেলেখেলায় মেতেছিলেন সব বোলারদের নিয়েই। মেরেছেন দারুণ সব শট। অফ স্পিনারকে স্লগ সুইপে সীমানা পার করেছেন। পেসারদের বাউন্সার আছড়ে ফেলেছেন গ্যালারিতে। বোলারদের কাউকে কোনাে কিছু করার সুযােগই দেননি তিনি । এমন দিনে দল হেরে গেলে দুর্ভাগ্যই হতো। যাহােক, এক পর্যায়ে শঙ্কা জাগলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।

২০০ রানের বিশাল লক্ষ্য পাওয়া পর ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ওভারেই সুনীল নারাইনকে হারায় ঢাকা। তবে এরপর ঝড় তোলেন রনি। সঙ্গী উপুল থারাঙ্গাও ছিলেন মারমুখী। পাওয়ার প্লেতে ৭১ রান তুলে ফেলে ঢাকা। দু’পাশ থেকে মারতে থাকেন তাঁরা। হু হু করে বাড়তে থাকে রান।

২৫ বলে অর্ধশততে পৌঁছান রনি। থারাঙ্গাও এগুচ্ছিলেন সেদিকে। স্বদেশী থিসারা পেরার বলে মারতে গিয়ে ৪৮ রানে কাটা পড়েন তিনি, তবে গড়ে দিয়ে যান ভিত। ৫৩ বলে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আসে ১০২ রান। ফিফটির পরও রনি ছিলেন অগ্নিমূর্তিতে। আরেক পাশে সাকিবকে নিয়ে রানও বাড়িয়েছেন। তাঁর দাপটের মাঝে অযথাই মারতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে আসেন সাকিব। অনেকখানি দৌড়ে সাকিবের ক্যাচটিও ধরেন তামিম।

তারপরও আশা দেখাচ্ছিলেন রনি। কিন্তু একটু বাদেই পোলার্ডের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে শেষ হয় তাঁর ইনিংস। ৩৮ বলের ইনিংসে ছয় বাউন্ডারি আর চার ছক্কায় ৬৬ করে ফেরেন পুরো টুর্নামেন্টে ভালো খেলা এই ব্যাটসম্যান।

আন্দ্রে রাসেলের উপর আশা ছিল ঢাকার। পেরেরার বলে রাসেল থেমে গেলে স্তব্ধ হয়ে যায় ঢাকা। নিজের সেরা সময় ফেলে আসা পোলার্ড ছিলেন, তবে তিনি প্রচুর ডট বল খেলে বাড়িয়েছেন চাপ, করতে পারেননি কিছুই। পোলার্ডের ক্যাচও লঙ অন থেকে দৌঁড়ে গিয়ে ছোবল মেরে নিয়েছেন তামিম।  

এরপরে আর কিছুই করার ছিল না ঢাকার ব্যাট্সম্যানদের। নুরুল হাসান, মাহমুদুল হাসানরা পরাজয়ের ব্যবধানই কমাতে পেরেছেন শুধু।

Loading...